শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৭ পূর্বাহ্ন
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীর দুর্গম চরাঞ্চলে সন্ত্রাসী তৎপরতা দমন, অবৈধ দখল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আবারও সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে জেলার পুলিশ।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলার সীমান্তসংলগ্ন পদ্মার চরাঞ্চলে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের প্রায় ২০০ সদস্য অংশ নেন। এসময় বিভিন্ন মামলার ২৫ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
অভিযান শেষে এ তথ্য নিশ্চিত করেন কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ। তিনি জানান, গ্রেফতার ব্যক্তিদের বেশিরভাগই বিভিন্ন মামলার আসামি ও পরোয়ানাভুক্ত। তবে তাদের মধ্যে কোনো সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্য রয়েছে কি-না, তা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে। অভিযানে কোনো অস্ত্র, মাদক বা গোলাবারুদ উদ্ধার হয়নি।
অভিযানে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলামসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পদ্মার দুর্গম চরাঞ্চলকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে একাধিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। চরের নিয়ন্ত্রণ, বালুমহাল দখল, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান, কৃষিজমির ফসল লুট এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এসব এলাকায় প্রায়ই গোলাগুলি ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং চরাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চার জেলার পুলিশ সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনা করছে। এর অংশ হিসেবে কুষ্টিয়ার সীমান্তসংলগ্ন পদ্মার দুর্গম চরাঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তল্লাশি ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের পাশাপাশি বিভিন্ন মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের আটকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর, চিলমারী, ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়ন দুর্গম চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এর আগে গত বছরের নভেম্বরেও এসব চরাঞ্চলে একাধিক অভিযান চালিয়েছিল পুলিশ। সেসময় বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়। তবে দুর্গম চরাঞ্চলে অপরাধমূলক তৎপরতা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় আবারও সমন্বিত অভিযান শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, চরাঞ্চলে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের তৎপরতা দমন ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভোর থেকে বিশেষ যৌথ অভিযান শুরু হয়। চরের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হয়েছে।