শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১২ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
ভারতের আসল কর্তা কি আম্বানি: প্রশ্ন ইলন মাস্কের ফ্যাসিবাদী আমলে খাতায় না লিখলেও পাসের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল: রিজভী পল্লবীতে জামায়াতের ডেঙ্গু সচেতনতা ক্যাম্পেইন ও মশক নিধন কর্মসূচি হরিরামপুরে ইজিবাইক-ভ্যান সংঘর্ষে প্রাণ গেল ভ্যানচালকের নারায়ণগঞ্জে বয়লার বিস্ফোরণে দগ্ধ ৪ ১৭ বছরের অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ করেছে বিএনপি সরকার: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৫ জনের মৃত্যু সিডনিতে বাংলাদেশ পূজা অ্যাসোসিয়েশনের দশম মহালয়া উদ্‌যাপন ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায় নির্বিশেষে সবার কল্যাণে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী আবরার ফাহাদকে হত্যার মাধ্যমে পুরো জাতিকে ভয় পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল :রুহুল কবীর রিজভী

ফ্যাসিবাদী আমলে খাতায় না লিখলেও পাসের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল: রিজভী

বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও নৈতিক ভিত্তিকে পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করার পরিবর্তে ওই সময়ে পাসের হার ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ দেখানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এমনকি খাতায় কিছু না লিখলেও শিক্ষার্থীদের পাস করিয়ে দিতে ওপর মহল থেকে শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের চাপ ও ধমক দেওয়া হতো।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন (আইইবি) মিলনায়তনে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট আয়োজিত শিক্ষক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, একটি জাতির মেরুদণ্ড দুর্বল হয়ে গেলে যেমন পুরো শরীর পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে, তেমনি একটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেলে পুরো জাতিই দুর্বল হয়ে পড়ে। বিগত আমলগুলোতে শিক্ষাব্যবস্থায় অতিরিক্ত রাজনীতিকরণের কারণে শিক্ষার গুণগত মান অনেক নিচে নেমে গেছে।

তিনি বলেন, বইয়ের পাতায় ব্যক্তির গুণকীর্তন ও ছবি প্রকাশকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অথচ শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। ফলে শিক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি সমাজের নৈতিক ভিত্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

শিক্ষকদের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা বলেন, শুধু নিজেদের ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলন নয়, শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলার দায়িত্বও শিক্ষক সমাজের। একটি সুন্দর, নৈতিক ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে শিক্ষকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

এ সময় যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক একটি ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরে রিজভী বলেন, দাবি আদায়ের পাশাপাশি শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করাও জরুরি। শিক্ষার মানোন্নয়ন ছাড়া কোনো জাতির কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়।

শিক্ষক সমাজের ন্যায্য দাবি-দাওয়ার বিষয়ে বিএনপির অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, বিএনপি সবসময় প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়নের মধ্যে সমন্বয় করেছে। শিক্ষক সমাজের ন্যায্য দাবি ও অধিকার সম্পর্কে দলটি সচেতন। বিএনপির যে ভিশন ও পরিকল্পনা রয়েছে, সেখানে শিক্ষক সমাজকে তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করা হবে না।

তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যোগ্য, দক্ষ ও নৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের যথাযথ মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে সমাবেশে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা শিক্ষক-কর্মচারী নেতারা অংশ নেন।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সহ-অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন এবং শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের মহাসচিব চৌধুরী মুকিম উদ্দীন মাহমুদ।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved bijoykantho© 2025