শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১২ পূর্বাহ্ন
স্টারলিংকের ভারতে কার্যক্রম শুরুতে অনুমোদন দিতে এত দেরি কেন- এমন প্রশ্ন তুলে এবার সরাসরি রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানিকে নিশানা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ধনকুবের ইলন মাস্ক। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি প্রশ্ন করেছেন, ‘আম্বানিই কি ভারতের আসল কর্তা?’ এর একদিন আগে ভারতের টেলিকম বাজারে ‘কিছু অলিগার্কের’ একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি।
মাস্কের দাবি, স্টারলিংক বিশ্বের ১৬৫টিরও বেশি দেশে লাইসেন্স পেয়েছে। ভারতে কার্যক্রম চালানোর জন্য গত পাঁচ বছর ধরে দেশটির আইন ও সরকারি সব শর্ত মেনে চলার পরও কেন এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া যাচ্ছে না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তবে স্টারলিংক ভারতে প্রয়োজনীয় কিছু লাইসেন্স পাওয়ার পরও নিরাপত্তা যাচাই ও স্পেকট্রাম-সংক্রান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
এরপরই মাস্ক মুকেশ আম্বানির নাম উল্লেখ করে জানতে চান, ‘Is Ambani the real boss of India?’ যার অর্থ দাঁড়ায়- ‘আম্বানি কি ভারতের প্রকৃত কর্তা?’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে অন্য একটি পোস্টের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন। মাস্কের অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ তিনি প্রকাশ্যে দেননি।
‘কিছু অলিগার্ক’ নিয়ে মাস্কের অভিযোগ
এর আগে বুধবার (৭ অক্টোবর) স্টারলিংকের ভারতে প্রবেশের বিলম্ব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মাস্ক অভিযোগ করেন, ‘কিছু অলিগার্ক’ নিজেদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে তার কোম্পানির স্যাটেলাইট যোগাযোগ সেবা আটকে দিচ্ছে।
তিনি লিখেছিলেন, এসব ব্যক্তি ভারতীয় জনগণের ওপর তাদের ‘monopolistic chokehold’ বা একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে স্টারলিংককে বাধা দিচ্ছেন। এমন কর্মকাণ্ডকে তিনি ‘ভারতের জনগণের বিরুদ্ধে অপরাধ’ বলেও মন্তব্য করেন।
মাস্কের পোস্টে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে ভারতের টেলিকম বাজারে রিলায়েন্স জিও ও ভারতী এয়ারটেলের বড় প্রভাব থাকায় তার মন্তব্য নিয়ে মুকেশ আম্বানি ও সুনীল ভারতী মিত্তালের নাম আলোচনায় আসে। জিওর মালিক আম্বানি নিজস্ব স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবাও চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
‘যেখানে ইন্টারনেট নেই, সেখানে কাজে আসবে স্টারলিংক’
ভারতে স্টারলিংকের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন মাস্ক। তিনি বলেন, ভারতের যেসব এলাকায় ইন্টারনেট দুর্বল অথবা একেবারেই নেই, এমনকি মোবাইল নেটওয়ার্কও পাওয়া যায় না, সেখানে স্টারলিংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মাস্কের ভাষ্য, কোনো দেশেরই সর্বত্র নিখুঁত ইন্টারনেট কাভারেজ নেই- যুক্তরাষ্ট্রেও নেই। স্টারলিংক বিশেষ করে যেসব মানুষের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তাদের জন্য এই সংযোগ ঘাটতি পূরণ করতে পারে। নিজের বক্তব্যের সমর্থনে ভারতের বিভিন্ন এলাকার দুর্বল টেলিকম সেবা নিয়ে ব্যবহারকারীদের পোস্টও তিনি শেয়ার করেছেন।
ভারতের সরকারের জবাব
মাস্কের অভিযোগ অবশ্য সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত সরকার। দেশটির যোগাযোগ মন্ত্রণালয় বলেছে, স্যাটেলাইট যোগাযোগসহ সব ধরনের টেলিকম সেবার জন্য ন্যায্য ও বৈষম্যহীন অনুমোদন কাঠামো রয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের ভাষায়, এই কাঠামো বা এর প্রয়োগ অন্যায্য কিংবা বৈষম্যমূলক- এমন দাবি ‘ভিত্তিহীন ও ভুল ধারণাপ্রসূত’।
ভারত সরকার আরও জানিয়েছে, স্টারলিংকসহ বর্তমানে স্যাটেলাইট যোগাযোগ সেবা চালুর জন্য লাইসেন্স পাওয়া তিনটি প্রতিষ্ঠানকেই প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা শর্ত পূরণ করতে হবে। তিন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়া চলছে।
ভারতে স্টারলিংকের পাশাপাশি রিলায়েন্সের জিও স্যাটকম এবং ভারতী-সমর্থিত ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েবও স্যাটেলাইট যোগাযোগ সেবা চালুর অপেক্ষায় রয়েছে। ফলে শুধু স্টারলিংককে আটকে রাখা হচ্ছে—মাস্কের এই অভিযোগের বিপরীতে ভারত সরকার বলছে, সব লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানই একই ধরনের নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে, এই টানাপোড়েনের মধ্যেই বাংলাদেশে বাংলালিংকের মাধ্যমে স্টারলিংক মোবাইল চালু হয়েছে। ফলে ভারতের আগে বাংলাদেশে স্টারলিংকের মোবাইল স্যাটেলাইট সংযোগ চালু হওয়ায় মাস্কের ভারত-সংক্রান্ত অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
সূত্র: মিন্ট