শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৩ পূর্বাহ্ন
রাজনৈতিক দলের নাম-পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অনৈতিক সুবিধা নিতে পারবে না বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, যারা দুষ্টু লোক, তাদের আসলে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। তারা সুবিধাবাদী।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সামাজিক আন্দোলন’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
প্রতিযোগিতায় সরকারিদল হিসেবে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিরোধীদল হিসেবে হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজের বিতার্কিকরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠান শেষে মাদক কারবারিদের সঙ্গে সরকারি দলের সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ববি হাজ্জাজ বলেন, রাজনৈতিক দল ও সরকার দুটি ভিন্ন বিষয়। যদিও গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিরাই সরকার পরিচালনার দায়িত্বে থাকেন, তবে রাজনৈতিক দল ও সরকার আলাদা। রাজনৈতিক দলে যে কেউ অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। আইনগতভাবেও কাউকে রাজনৈতিক দলে সম্পৃক্ত হওয়া থেকে বাধা দেওয়া যায় না। নির্বাচন কমিশনের আইন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) অধীনেও কাউকে রাজনৈতিক দলে সম্পৃক্ত হওয়া থেকে রোধ করা যায় না।
তিনি বলেন, ‘যারা অপরাধী, অর্থাৎ অপরাধের সঙ্গে জড়িত-যারা দুষ্টু লোক, তাদের আসলে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় হয় না। তারা সুবিধাবাদী। তারা যেখানে গিয়ে মনে করে, সেখানে এ ধরনের কাজ বেশি করতে পারবে, তারা সেখানেই যায়।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সরকারের একটা প্রচেষ্টা আছে। আমি বলব না, সবকিছু একদম নিখুঁতভাবে হচ্ছে বা সব জায়গায় সবকিছু ঠিক আছে। তবে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে মন্ত্রিসভা এবং সংসদ সদস্যদেরও এ বিষয়ে প্রচেষ্টা রয়েছে। রাজনৈতিক নাম বা পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যেন এ ধরনের অনৈতিক সুবিধা নিতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।’
সরকার কঠোর অবস্থানের কথা বললেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। এ ক্ষেত্রে পুলিশ বা মাঠ প্রশাসনের ওপর সরকারের কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ আছে কি না, জানতে চাইলে ববি হাজ্জাজ বলেন, “সরকারের কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নেই। আমি স্পষ্টভাবে আপনাদের বলতে পারি, সরকারের কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নেই। তবে সরকারের পরিধি অনেক বড়। সরকারের ভেতরে অনেক ব্যক্তি রয়েছেন। সবাই যে ঠিক একই চিন্তা-চেতনা নিয়ে একইভাবে কাজ করছেন, সেই নিশ্চয়তা আমি দিতে পারব না।
‘যতক্ষণ পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত সরকার তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারবে না। সে জায়গা থেকে সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত দু-একজন অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন, এমনটা হতেই পারে। কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের হাতে বাস্তব প্রমাণ না আসছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আলোচনা করতে পারছি না।’