মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৪২ পূর্বাহ্ন
নেত্রকোনার বারহাট্টায় বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধে বড় ভাইয়ের লাঠির আঘাতে ছোট ভাই সাইকুল ইসলাম (৩৫) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার স্ত্রী ও ১৫ বছর বয়সী মেয়ে আহত হয়েছেন।
সোমবার (২ নভেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সাইকুল।
এর আগে, রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার সিংধা ইউনিয়নের চন্দ্রপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চম্পক দাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
নিহত সাইকুল চন্দ্রপুর গ্রামের মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে। অভিযুক্ত বড় ভাইয়ের নাম সাইদুর রহমান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছয় ভাইয়ের মধ্যে সাইকুল একাই গ্রামের বাড়িতে থাকতেন। অন্য ভাইদের মধ্যে তিনজন ঢাকায়, একজন প্রবাসে এবং অন্যজন বারহাট্টা শহরে থাকেন। কয়েকদিন আগে সাইদুর স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে আসেন। এরপর বাড়ির সীমানা নির্ধারণ ও দেওয়াল নির্মাণের চেষ্টা করেন তিনি। এ নিয়ে সাইকুলের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়।
একপর্যায়ে সাইদুর, তার স্ত্রী ও ছেলে লাঠিসোঁটা নিয়ে সাইকুলের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে সাইকুলের মাথায় একাধিক আঘাত লাগে। এ সময় বাধা দিতে গেলে তার স্ত্রী ও মেয়েকেও মারধর করা হয়। পরে স্থানীয়রা আহত তিনজনকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার ভোরে সাইকুল মারা যান। তার স্ত্রী ও মেয়ের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর অভিযুক্ত সাইদুর ও তার পরিবারের সদস্যরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।
সিংধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাসিম তালুদার বলেন, খবর পেয়ে তিনি ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন। ছয় ভাইয়ের মধ্যে সাইকুল একাই গ্রামের বাড়িতে থাকতেন এবং কৃষিকাজ করতেন। বাড়ির সীমানা নিয়ে দুই ভাইয়ের কথা কাটাকাটি থেকে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে সাইকুল, তার স্ত্রী ও মেয়ে আহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাইকুল মারা যান।
ওসি চম্পক দাম বলেন, সাইকুলের মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় সোমবার দুপুরে নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে সাইদুর, তার স্ত্রী ও ছেলের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছেন। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।