শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৩ অপরাহ্ন

পটিয়ায় মাদক কারবারিদের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৭

চট্টগ্রামের পটিয়ায় মাদক ব্যবসা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে পৃথক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাতে উপজেলার কেলিশহর ইউনিয়নের পূর্ব রতনপুর ও পৌরসভার মনসা বাদামতল এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন।

আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় জনতার গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছেন মো. মহসিন নামে এক ব্যক্তি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কেলিশহর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব রতনপুর মৌলভী বাজারের পূর্ব-দক্ষিণ পাশে মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে যুবদলকর্মী সৈয়দ নূর ও সৈয়দ আমিন গুরুতর আহত হন। তাদের মধ্যে সৈয়দ আমিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, রাত ১১টার দিকে পটিয়া পৌরসভার মনসা বাদামতল এলাকায় মাদক ব্যবসা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে পাঁচজন আহত হন। তারা হলেন আবু বক্কর সুজন মেম্বার, জাহাঙ্গীর আলম, মোহাম্মদ টিপু, ইরফান ও আজাদ।

পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তাদের মধ্যে আবু বক্কর সুজন মেম্বারের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব রতনপুর মৌলভী বাজার এলাকায় মো. মহসিন ও তার সহযোগী আবু তাহের দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে তাদের বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে শুক্রবার রাতে ওয়ার্ড যুবদলের কর্মী সৈয়দ নূরের ওপর টর্চলাইট দিয়ে অতর্কিত হামলা চালান মহসিন। এ সময় তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে সৈয়দ আমিনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন মহসিনের সহযোগী আবু তাহের বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আহত দুজনকে উদ্ধার করে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এ সময় ক্ষুব্ধ জনতা মহসিনকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে আটকে রাখে। খবর পেয়ে পটিয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

যুবদলকর্মী সৈয়দ নূর জানান, দীর্ঘদিন ধরে মহসিন ও তার সহযোগীরা এলাকায় মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন। তারা এতে বাধা দেওয়ায় শুক্রবার রাতে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।

এদিকে, গুরুতর আহত সৈয়দ আমিন রাত ১২টার পর হাতে স্যালাইন লাগানো অবস্থায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে পটিয়া থানায় আসেন। তিনি জানান, পটিয়া হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর তাকে চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য কফিল উদ্দীন জানান, মহসিন ও আবু তাহেরের মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় সৈয়দ নূর ও সৈয়দ আমিনের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়েছে।

পটিয়া যুবদলের সংগঠক মো. সাখাওয়াত জানান, আহত সৈয়দ নূর ও সৈয়দ আমিন দুজনই যুবদলের কর্মী। মাদক কারবারিরা তাদের মারাত্মকভাবে জখম করেছেন। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তারা আশা করছেন, প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

এ বিষয়ে পটিয়া থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আল-আমিন জানান, শুক্রবার রাতে মাদক উদ্ধারের খবর পেয়ে পুলিশ কেলিশহর পূর্ব রতনপুর মৌলভী বাজার এলাকায় গেলেও সেখানে কোনো মাদক পাওয়া যায়নি। তবে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন।

গণধোলাইয়ের শিকার মহসিনকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে মাদকের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved bijoykantho© 2025