রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৪ অপরাহ্ন

আল্লাহর সাহায্য লাভের উপায় কী?-ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর

আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে হয় সবর ও সালাতের মাধ্যমে। আল্লাহ তাআলা কোরআনে শিখিয়েছেন, ‘ইস্তাঈনু বিস-সাবরি ওয়াসসলাহ’ অর্থাৎ সবর ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাও। আমাদের দেশে যারা বেনামাজি, তাদের কোনো সবর নেই। মুরগির অসুখ হলে পীর সাহেবের কাছে ছুটে আসে! নামাজ পড়লে মানুষের মনে সবর আসে, আল্লাহর ওপর ভরসা আসে।

এজন্য আমি মাঝে মাঝে বলি যে, বেনামাজি মুসলমান বাংলাদেশে বেশি থাকলে আমাদের হুজুরদের কিন্তু লাভ! বেনামাজির মুরগির অসুখ হলে, ছাগলের অসুখ হলে, ছেলের অসুখ হলে, স্বামীর অসুখ হলে টাকা নিয়ে আমাদের কাছে দৌড়ায়। আর নামাজি বেশি হলে আমাদের লস! নামাজি অত হাদিয়া দেয় না। সুতরাং নামাজ পড়তে বলি আপনাদের লাভের জন্য, হুজুরদের লাভের জন্য না।

আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলছেন, বিপদে-আপদে যদি সাহায্য চাইতে হয়, সবর করো, আল্লাহর ওপর ভরসা রাখো, নামাজে দাঁড়াও। নামাজের সেজদায় দোয়া করো। আল্লাহ বিপদ কাটিয়ে দেবেন।

আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরও বলেছেন, যদি বিশ্বের সকল সৃষ্টি—জিন, ইনসান, ফেরেশতা, গাউস, কুতুব, ওলি, আবদাল, পীর সবাই মিলে এক জায়গায় হয় যে, তোমার কোনো উপকার করবে, আল্লাহর ইচ্ছার বাইরে, আল্লাহর নির্ধারণের বাইরে কোনো উপকার তোমার করতে পারবে না। আর যদি সারা সৃষ্টি—জিন, ইনসান, ফেরেশতা, মানুষের ভেতরে ওলি-বুজুর্গ সবাই মিলে একসাথে হয়ে সিদ্ধান্ত নেয় যে, তোমার কোনো ক্ষতি করবে, আল্লাহর ইচ্ছা-নির্ধারণের বাইরে কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।

এটা মনের ভেতরে রাখতে হবে। এটা হলো আমাদের বাঁচার পথ।

যারা ইমানদার, তাদের একমাত্র মালিক আল্লাহ। সে জানে আমার ভালো-মন্দ আল্লাহর হাতে। আমি চাকরি করি, ব্যবসা করি আল্লাহর হুকুম করি। কিন্তু ভালো-মন্দর মালিক আল্লাহ যিনি আমাকে আমার চেয়ে ভালোবাসেন, মায়ের চেয়েও ভালোবাসেন, আমার ভালো-মন্দ আমার চেয়ে বেশি বোঝেন। কাজেই মুমিনের মনে এত টেনশন থাকে না।

আর যে মুশরিক, তার মনে শুধু টেনশন; কোথায় যাবো? কোনো দরগায়, কোনো মাজারে? ওই গাছের পানি, ওই পুকুরের জল, ওই কুমিরের গায়ের ময়লা, ওই শৈলমাছের গায়ের ময়লা এগুলোর পেছনে সারাদিন ছুটে বেড়ায়! কোনো শান্তি নেই! মনটা সবসময় অস্থির।

তাই সত্যিকারের মানুষ হতে গেলে, সত্যিকারের সফলতা পেতে গেলে আমাদেরকে অন্তর দিয়ে বিশ্বাস করতে হবে যে, ভালো-মন্দর মালিক একমাত্র আল্লাহ। আল্লাহ না দিলে কেউ দিতে পারে না, আল্লাহ দিলে কেউ ঠেকাতে পারে না। আল্লাহর রহমত-বরকত পাওয়ার জন্য প্রথম কাজ হলো ইমানটাকে মজবুত করা। দ্বিতীয় কাজ হলো চেষ্টা করে আল্লাহর রহমতের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করা।

ইমান যে আমরা রাখবো, রাখতে গেলে একটা মডেল লাগে। এজন্য আল্লাহ ইমানের কালিমায় মডেলের কথাও বলে দিয়েছেন ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মানে আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। আর মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ মানে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছাড়া কোনো মুর্শিদ নেই। আমরা ইবাদত করব একমাত্র আল্লাহর আর ইবাদতের ক্ষেত্রে আদর্শ হিসেবে অনুসরণ করবো রাসুলুল্লাহর (সা.)।

যখন রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তরিকায় আল্লাহর ইবাদত করার চেতনায় সুদৃঢ় হব, আমাদের বাকি কাজ সহজ হয়ে যাবে। ইমানকে মজবুত করার জন্য আল্লাহর কয়েকটা ছোট ছোট ইবাদতের কথাও বলি এতে ইমান মজবুত হবে, দুনিয়ার বরকত পাওয়া যাবে।

এক নম্বর হলো নামাজ। নামাজ আমার খাওয়ার মতো। অনেকে বলে, হুজুর টুপি নেই! হুজুর, সুরা-কেরাআত জানি না, তাই নামাজ পড়তে পারছি না। কিন্তু কেউ কি বলে, হুজুর, খাওয়া-দাওয়া প্রায় এক মাস খাইনি, কারণ বউ শুধু আলুভর্তা আর ভাত রান্না করেছে? কারণ আমরা জানি, খাবার খেতে হবে। ভালো হলে ভালো, নইলে যা পাওয়া যায় খেতে হবে, নইলে কী হবে? দেহটা মরে যাবে।

নামাজ আমাদের আত্মার খোরাক। নামাজ যেকোনোভাবে পড়তে হবে; অজু থাকলে অজুসহ, নইলে অজু ছাড়া তায়াম্মুম করে; দাঁড়িয়ে থাকলে দাঁড়িয়ে, নইলে বসে, নইলে শুয়ে; কিবলামুখী হতে পারলে কিবলামুখী হয়ে, নইলে উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিম যেদিকে পারছি মুখ করে; দাঁড়িয়ে থাকলে দাঁড়িয়ে, নইলে হাঁটতে-হাঁটতে, দৌড়াতে-দৌড়াতে, ঘোড়ার পিঠে বসে, পায়ে হাঁটতে-হাঁটতে নামাজ আমাকে সময়মতো পড়তেই হবে।

আমি সাধ্যের ভেতরে যতটুকু করেছি, তাতেই আল্লাহ তাআলা আমার পুরো সওয়াব দিয়ে দেবেন। আমাদের দেশে অনেকে বলে, মন ভালো হোক, তারপর নামাজ পড়বো! কিন্তু কেউ কি বলে, আগে সুস্থ হই, তারপর খাওয়া-দাওয়া করব?

অনেকে বলে যে, নামাজের মতো নামাজ জীবনে একবার পড়লে হয়! রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কি নামাজের মতো নামাজ পড়তেন না? তিনি কেন আজীবন নামাজ পড়লেন? কেউ যদি মনে করে আমি নবীর চেয়ে বড়, আমার একবার নামাজ পড়লেই হয়ে যায়, সে কি মুসলমান থাকে? কেউ কি বলে যে, খাওয়ার মতো খাওয়া জীবনে একবার খেলেই হয়? তা তো বলে না।

সুতরাং নামাজ নিয়ে এসব অনর্থক কথা বলা যাবে না। ইমানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ আমল হলো নামাজ, আমাদের সবাইকে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved bijoykantho© 2025