রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩১ অপরাহ্ন
বেশ কিছু হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাতে সুরা মুলক পাঠ করলে কবরে আল্লাহর আজাব থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। সুরাটি তার পাঠকারীর জন্য আল্লাহর সাথে কাছে সুপারিশ করবে। সাহাবিরা এ সুরাটিকে ‘মানিআ’ বা কবরের আজাব প্রতিরোধকারী বলতেন।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, কোরআনে ত্রিশ আয়াত বিশিষ্ট একটি সুরা আছে। যে ব্যক্তি নিয়মিত ওই সুরা পাঠ করবে তার জন্য সুরাটি ক্ষমা আদায় করা পর্যন্ত সুপারিশ করতে থাকবে। সে সুরা হল, ‘তাবারাকাল্লাযি বিইয়াদিহিল মুলক’। (সুনানে আবু দাউদ: ১৪০০, সুনানে তিরমিজি: ২৮৯১)
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, যে ব্যক্তি প্রতি রাতে সুরা মুলক পড়বে আল্লাহ তাআলা তাকে এর মাধ্যমে কবরের আজাব থেকে মুক্ত রাখবেন। আল্লাহর রাসুলের (সা.) যুগে এ সুরাকে আমরা ‘মানেআ’ অর্থাৎ কবরের আজাব প্রতিরোধকারী বলতাম। যে ব্যক্তি প্রতি রাতে এ সুরা তিলাওয়াত করল সে অনেক তিলাওয়াত করল এবং উত্তম কাজ করল। (সুনানে কুবরা নাসাঈ: ১০৫৪৭)
সুরাটির নামেই এর মূল বিষয়বস্তু ও মর্মার্থ ফুটে উঠেছে। আরবি ‘মুলক’ শব্দের অর্থ সার্বভৌমত্ব। আসমান ও জমিনে সার্বভৌমত্বের একমাত্র মালিক যে মহান আল্লাহ, তা এ সুরায় অত্যন্ত স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
প্রথম আয়াত: আল্লাহ সব ক্ষেত্রে তাঁর সার্বভৌম কর্তৃত্বের কথা ঘোষণা করেছেন।
দ্বিতীয় আয়াত: আল্লাহ বলেছেন, ‘যিনি সৃষ্টি করেছেন মৃত্যু ও জীবন, তোমাদের মধ্যে আমলের দিক থেকে কে উত্তম, তা পরীক্ষা করার জন্য।’
এতে বোঝা যায়, জীবনের মতো মৃত্যুও আলাদা একটি সৃষ্টি; অর্থাৎ শুধু জীবনের অবসান বা অনুপস্থিতিই মৃত্যু নয়। মৃত্যু স্বতন্ত্র একটি সৃষ্টি। এ আয়াত থেকে স্পষ্ট হয়, যিনি মৃত্যু সৃষ্টি করেছেন তিনি অবশ্যই মৃত্যু থেকে মুক্ত। জন্ম-মৃত্যু সৃষ্টির উদ্দেশ্য বর্ণনার মাধ্যমে মানুষের জীবনের মূল লক্ষ্য তুলে ধরা হয়েছে।
আল্লাহকে ভয় করে যে বান্দা সিরাতে মুসতাকীমের ওপর অটল-অবিচল থাকবে এবং জীবন-পরীক্ষায় কৃতকার্য হবে, তার জন্য মহা পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, মানুষ যদি আল্লাহর নাফরমানির পথ অবলম্বন করে, তবে তার জন্য কী ভয়াবহ পরিণাম অপেক্ষা করছে, তা বিবৃত হয়েছে। পরিশেষে আল্লাহর বিভিন্ন নিয়ামতের কথা উল্লেখ করে তাঁর প্রতি মানুষের মুখাপেক্ষিতা ও অসহায়ত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এসব কারণে সুরা মুলক মুমিনের জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক পাথেয়।
হজরত উসমান (রা.) যখন কবরের পাশ দিয়ে যেতেন, তখন কান্নায় তাঁর দাড়ি ও বুক ভেসে যেত। লোকেরা তাঁকে জিজ্ঞেস করত, ‘আপনি জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা শুনেও এত বেশি কান্নাকাটি করেন না, কিন্তু কবরের পাশ দিয়ে গেলে এত কান্নাকাটি কেন করেন?’
তিনি বলতেন, ‘আমি রাসুল (সা.)-এর কাছে শুনেছি কবর হলো আখেরাতের প্রথম ঘাঁটি। যে ব্যক্তি এখানে নাজাত পেয়ে গেল, তার জন্য পরবর্তী মনজিলগুলো সহজ হয়ে যাবে। আর যে ব্যক্তি এখানে মুক্তি পেল না, তার জন্য পরবর্তী মনজিলগুলো আরও ভয়ংকর হয়ে দাঁড়াবে।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ: ৪২৬৭)