শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১১ অপরাহ্ন
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সদস্যদের চায়ের দাওয়াত দিয়ে পদত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন; জুলাই গণহত্যার বিচার; বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন; নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ; দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে আমরা আন্দোলন করছি, লংমার্চ করছি। আমরা দুর্নীতি বন্ধের দাবিতে আন্দোলন করছি। অবিলম্বে দুর্নীতির পথগুলো বন্ধ করা উচিত। দুর্নীতি দমন কমিশনসহ মানবাধিকার কমিশন, গুম-খুন রোধ করার জন্য আমরা স্বাধীন কমিশন করার কথা বলেছি।’
প্রশাসনের সর্বত্র নির্লজ্জভাবে দলীয়করণ করা হচ্ছে দাবি করে জামায়াতের এ নেতা বলেন, ‘পিএসসির সদস্যদের চায়ের দাওয়াত দিয়ে পদত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে। আমাদের সন্তানরা মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের জন্য, বৈষম্য নির্মূলের জন্য আন্দোলনে নেমেছিল। কোটা আন্দোলন ও জুলাই আন্দোলন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, মেধা হত্যা করা হয়েছে অতীতের ফ্যাসিবাদী আমলে। একই পথে হাঁটছে বর্তমানের নব্য ফ্যাসিবাদ। সেজন্য মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ ও পদোন্নতি হচ্ছে না, হচ্ছে দলীয় বিবেচনায়। নির্বাচন কমিশনে অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদায় একজন দলীয় ব্যক্তিকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। নির্লজ্জ দলীয়করণের উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো এই শামসুল আলমের নিয়োগ।’
তিনি বলেন, ‘ঠাকুরগাঁওয়ে ১১ দলের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনের পক্ষে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে। জনগণ ভোট দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু আগামী ২৯ অক্টোবরের উপ-নির্বাচনে ১২ ফেব্রুয়ারির মতো ইঞ্জিনিয়ারিং করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে আমরা খবর পাচ্ছি। যদি এ ধরনের কিছু হয়, তাহলে মাগুরা থেকে শিক্ষা নিতে সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছি। মাগুরার নির্বাচন বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায়। এখান থেকে সরকার পতনের আন্দোলন হয়েছিল, চূড়ান্ত রূপ নিয়েছিল। সরকার যদি ক্ষমতায় থাকতে না চায়, তাহলে আমরা তো জোর করে ক্ষমতায় রাখতে পারবো না। তাদের প্রতিটি আচরণে মনে হচ্ছে—ছেড়ে দে মা, কেঁদে বাঁচি। অজুহাত তৈরি করে পালিয়ে যাই। এরকম পরিস্থিতি তৈরি করে দিলে জনগণের কিছু বলার নাই। মাগুরার পুনরাবৃত্তি ঘটুক আমরা চাই না। সেজন্য মাগুরা মার্কা নির্বাচন করার অশুভ পরিকল্পনা থাকলে তা থেকে সরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।’
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘আগামী ৩১ অক্টোবরের লংমার্চ হবে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল, জনবান্ধব এবং জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণমূলক। সরকার যেন অনতিবিলম্বে জনগণের ভাষা বুঝতে পারে। দেশের আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত যারা রয়েছেন হেডকোয়ার্টারে, জেলা ও উপজেলায়, সর্বত্র সবার প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে, প্রতিটি জনগণের নিরাপত্তা দেবেন। কারণ এ দায়িত্ব হলো সরকার ও প্রশাসনের। সে জায়গায় কারও উসকানি এবং বিশৃঙ্খলা করার সামান্যতম নমুনা যদি থাকে, তাহলে যেন সরকার সে ব্যাপারে আগেই ব্যবস্থা নেয়। সে ব্যবস্থা সরকার ও প্রশাসন যদি না নেয়, তাহলে আমরা বুঝে নেবো, আমাদের এ কর্মসূচির মধ্যে সরকার এবং ফ্যাসিবাদী শক্তির যৌথভাবে বিশৃঙ্খলা তৈরির জন্য আপনারা (প্রশাসন) হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হচ্ছেন। আমরা আশা করি না, কোনো ষড়যন্ত্রকারী এ ধরনের ষড়যন্ত্রমূলক কাজে জড়িত হোক। প্রশাসন জনগণের এবং তারা জনগণের হয়ে কাজ করবে। জননিরাপত্তার জন্য কাজ করবে। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে আমরা তাদের সহযোগিতা চাই, সহযোগিতা করবেন—এ প্রত্যাশা রাখছি।’এর আগে হামিদুর রহমান আযাদের সভাপতিত্বে লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমীন, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল মাজেদ আতহারী, এবি পার্টির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার মহাসচিব ইকবাল হোসাইন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ফখরুল ইসলাম প্রমুখ।