শনিবার, ১১ Jul ২০২৬, ১২:৫২ পূর্বাহ্ন

আয়াতুল কুরসির ফজিলত

আয়াতুল কুরসি সুরা বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াত। আয়াতে স্বয়ংসম্পূর্ণ দশটি বাক্য আছে। এই দশ বাক্যের মূল বিষয়বস্তু তাওহিদ বা আল্লাহর একত্ববাদ। আয়াতে আল্লাহর একত্ববাদ, মর্যাদা ও গুণের বর্ণনা থাকার কারণে এতে অনেক ফজিলত রয়েছে। হজরত মুহাম্মদ (সা.) একে কোরআনের শ্রেষ্ঠ আয়াত বলেছেন। তিনি এই আয়াত দিনে-রাতে পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

আয়াতুল কুরসি পাঠ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। এটি যে কোনো সময় পড়া যায়। তবে হাদিসে তিন সময়ে পাঠ করার বিষয়ে অধিক ফজিলতের কথা বর্ণিত হয়েছে।

১. সকাল-সন্ধ্যায় আয়াতুল কুরসি পড়া

সকাল ও সন্ধ্যায় আয়াতুল কুরসি পাঠ করলে জিনের ক্ষতি থেকে নিরাপদ থাকা যায়। হাদিসে আছে, ‘যে সকালে আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, সে সন্ধ্যা পর্যন্ত জিনের ক্ষতি থেকে হেফাজতে থাকবে। যে সন্ধ্যায় আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, সে সকাল পর্যন্ত জিনের ক্ষতি থেকে হেফাজতে থাকবে।’ (মুসতাদরাকে হাকিম, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৭৪৯)

২. ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করা

ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পড়লে নিশ্চিত জান্নাতে প্রবেশ করা যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, তার জান্নাতে প্রবেশের পথে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো অন্তরায় থাকবে না।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ১৪৪৩)

৩. রাতে ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পড়া

রাতে ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পড়লে শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে বেঁচে থাকা যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কেউ যদি রাতে শোয়ার সময় আয়াতুল কুরসি পাঠ করে, তাহলে সকাল পর্যন্ত আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তার জন্য একজন হেফাজতকারী থাকে এবং শয়তান তার কাছে যেতে পারে না।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০১০)

হাদিসে আছে, আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে রমজানের জাকাত (সদকাতুল ফিতরের খেজুর) দেখা-শোনার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। (রাতে) এক আগুন্তুক এসে সেই (স্তুপকৃত) খাদ্যবস্তু (খেজুর) থেকে মুঠি ভরে নিতে লাগল। আমি তাকে ধরে ফেলে বললাম, তোমাকে আল্লাহর রাসুলের কাছে হাজির করব। সে বলল, দেখুন, আমি এক অভাবী। প্রয়োজনগ্রস্ত ও পরিবারের ভারগ্রস্ত লোক। আমি তাকে ছেড়ে দিলাম। সকালে নবী (সা.) বললেন, আবু হুরায়রা, তোমার গত রাতের বন্দির কি হলো? বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, সে তার অভাব-অনটন ও পরিবারের ভারগ্রস্ততার কথা বলায় আমার দয়া জেগেছে। তাই তাকে ছেড়ে দিয়েছি। নবী (সা.) বললেন, সে তোমাকে মিথ্যা বলেছে। সে আবারও আসবে।

ফলে আমার জানা হয়ে গেল, রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন বলেছেন আসবে, অবশ্যই সে আসবে। আমি তার অপেক্ষায় প্রস্তুত হয়ে রইলাম। এর মধ্যে সে এসে স্তুপকৃত খাদ্যবস্তু থেকে মুঠি ভরে নিতে লাগল। আমি তাকে ধরে বললাম, তোমাকে আল্লাহর রাসুলের কাছে হাজির করবই। সে তখন বলতে লাগল, আমাকে ছেড়ে দিন। আমি তো অভাবী লোক, পরিবারের ভারগ্রস্ত, আর আসব না। তার এ কথায় আমার দয়া হলো। ছেড়ে দিলাম। সকালে রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, তোমার বন্দির কি হলো? বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, সে তার প্রচণ্ড অভাবগ্রস্ত ও পরিবারের ভারগ্রস্ততার কথা বলছিল, তাই আমার দয়া হয়েছে। তাকে ছেড়ে দিয়েছি। তিনি বললেন, দেখ, সে তোমাকে মিথ্যা বলেছে। সে আবারও আসবে।

তাঁর এ কথায় তৃতীয় রাতেও আমি অপেক্ষায় রইলাম। একপর্যায়ে সে এসে মুঠি ভরে খাদ্য নিতে লাগল। আমি তাকে ধরে ফেলে বলি, এবার তোমাকে রাসুলুল্লাহর কাছে হাজির করেই ছাড়ব। এ নিয়ে তিনবার ঘটল যে, তুমি বলো, আসবে না। কিন্তু আবার আস। সে তখন বলল, আমাকে ছেড়ে দিন। আপনাকে এমন কিছু কথা শিখিয়ে দেব, যা দিয়ে আল্লাহ আপনাকে উপকৃত করবেন। বললাম, কী সেই কথা। সে বলল, যখন বিছানায় যাবেন তখন আয়াতুল কুরসি পড়বেন। তাহলে আল্লাহর পক্ষ থেকে সকাল পর্যন্ত আপনার জন্য একজন রক্ষাকর্তা নিযুক্ত থাকবেন এবং সকাল পর্যন্ত শয়তান আপনার কাছে ভিড়বে না। আমি তাকে ছেড়ে দিলাম। সকালে রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, গত রাতে তোমার বন্দির কি হলো? বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, সে বলল যে, আমাকে এমন কথা কিছু কথা শিখিয়ে দেবে, যা দিয়ে আল্লাহ আমাকে উপকৃত করবেন। তাই তাকে ছেড়ে দিয়েছি।

জিজ্ঞেস করলেন, সে কথাগুলো কী? বললাম, সে বলেছে, যখন ?তুমি বিছানায় যাবে তখন আয়াতুল কুরসি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পাঠ করবে। সে বলল, আল্লাহর পক্ষ থেকে সকাল পর্যন্ত তোমার জন্য এক রক্ষাকর্তা নিযুক্ত থাকবেন আর (সকাল পর্যন্ত) কোনো শয়তান তোমার কাছে ভিড়বে না। (সাহাবিরা তো কল্যাণের বিষয়ে খুবই লালায়িত ছিলেন)। নবী (সা.) বললেন, শোন, সে তোমাকে সত্যই বলেছে, যদিও সে বড় মিথ্যুক। এরপর বললেন, আবু হুরায়রা, তুমি কি জান পরপর তিন রাত কার সঙ্গে কথা বলেছ? তিনি বললেন, না। নবী (সা.) বললেন, সে ছিল এক শয়তান।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৩১১)

আয়াতুল কুরসির উচ্চারণ

আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়ুল কাইয়ুম, তা তাখুজুহু সিনাতুও ওয়ালা নাওম। লাহু মা ফিস-সামা ওয়াতি ওয়া মা ফিল আরদ। মান জাল্লাজি ইয়াশফাউ ইন্দাহু ইল্লা বি ইজনিহ, ইয়ালামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়া মা খালফাহুম, ওয়ালা ইউহিতুনা বি শাইইম মিন ইলমিহি ইল্লা বিমা শাআ। ওয়া সিয়া কুরসিইহুস্ সামা ওয়াতি ওয়াল আরদ। ওয়ালা ইয়াউদুহ হিফজুহুমা ওয়াহুয়াল আলিইয়ুল আজিম।

আয়াতুল কুরসির অর্থ-

আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই। তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও জমিন যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর। কে আছ এমন যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমিত ছাড়া? দৃষ্টির সামনে কিংবা পেছনে যা কিছু রয়েছে, সে সবই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোনো কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারে না, কিন্তু যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন। তাঁর কুরসি (সিংহাসন) সমস্ত আসমান ও জমিনকে পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলোকে ধারণ করা তাঁর পক্ষে কঠিন নয়। তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved bijoykantho© 2025