মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১২:১৩ অপরাহ্ন
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন যেন শুরু হচ্ছে ইরানে ফের হামলা চালিয়ে। নির্বাচনের দিনেই মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে নতুন উত্তেজনার মেঘ। ইরানের কেশম দ্বীপে রাতের নীরবতা ভেঙেছে একের পর এক বিস্ফোরণ।
বন্দর লেঙ্গেহ থেকেও পাওয়া গেছে বিস্ফোরণের খবর। এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার কথা জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম।
গত সোমবার (২ নভেম্বর) রাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানায়, অল্প সময়ের ব্যবধানে কেশম দ্বীপে কয়েকটি বিস্ফোরণ ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা সংস্থাটিকে জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের সময় দ্বীপটির আকাশে দুটি প্লেন উড়তে দেখা গেছে। হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের দক্ষিণ উপকূলে অবস্থিত এই দ্বীপ।
আধাসরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, বন্দরনগরী বন্দর লেঙ্গেহেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। সমুদ্রের দিক থেকে এসব শব্দ এসেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল দেশটির কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীই এসব হামলা চালিয়েছে।
কর্মকর্তারা বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার সক্ষমতা কমিয়ে আনতেই এ অভিযান চালানো হয়েছে জানিয়েছেন তারা।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসও (এপি) এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে আত্মরক্ষামূলক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন স্থাপনা নিশানা করে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা ইরানিদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।
গত সোমবার হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্লেন নিশানা করে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) গুলি চালানোর জবাবে এ হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফক্স নিউজ ও অ্যাক্সিওসের সাংবাদিকেরা।
তবে, এ বিষয়ে ইরান বা যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত সোমবার আইআরজিসি দাবি করে, ইলেকট্রনিক যুদ্ধপ্রযুক্তি ব্যবহার করে কেশম দ্বীপের দক্ষিণে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি গোয়েন্দা ড্রোন আটক করেছে তারা। একই সঙ্গে, হরমুজ প্রণালির পূর্বদিকে একটি এমকিউ-৯ ড্রোন ধ্বংস করার দাবিও করেছে সংস্থাটি।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে এ হামলা চালানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দেশটিতে গুরুত্বপূর্ণ এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে লড়ছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি।
এদিকে, ইরানে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ঠেকাতে কূটনৈতিক তৎপরতাও জোরদার হয়েছে। গত সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে শিগগির সমঝোতা হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের।
এর আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে হামলা চালানোর কোনো পরিকল্পনা তার নেই।
সূত্র: আল-জাজিরা