শুক্রবার, ১০ Jul ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ন

মাদকে ভেজাল নেই, খাদ্যে ভেজাল: সংসদে জামায়াতের নারী এমপি

জামায়াতে ইসলামীর সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নী বলেছেন, ‘মাদকের মধ্যে ভেজাল নেই, কিন্তু খাদ্যে ভেজাল। এটি সত্যিই আশ্চর্যজনক।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২২তম দিন সম্পুরক প্রশ্নের খাদ্যমন্ত্রীর কাছে সরকারের পদক্ষেপ জানতে চান সাবিকুন্নাহার। এসময় তিনি ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে বেলা ৩টায় সংসদের বৈঠক শুরু হয়।

সাবিকুন্নাহার সম্পুরক প্রশ্ন রেখে বলেন, আজকে বাজারে দেখতে পাচ্ছি যে, খাদ্য রয়েছে, বিশেষ করে এ ফলের মৌসুমে ফলের রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়। কোন ফলটি যে কিনবো, কোনটি যে ফরমালিন মুক্ত, কোনটি যে আমার স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী, সেটা আমরা ডিসাইড করতে পারি না। তো এ অবস্থা কতদিন চলবে? আসলে আমরা দেখি যে আমাদের মাদকের মধ্যে ভেজাল নেই, কিন্তু খাদ্যের মধ্যে ভেজাল। এটা বড়ই আশ্চর্যজনক বিষয়। ভেজালের দুনিয়া কিন্তু মাদকে কিন্তু ভেজাল নেই। মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে আমার প্রশ্ন যে আমরা এ ভেজালমুক্ত খাদ্য এটা নিশ্চিত করতে কী ধরনের পদক্ষেপ রয়েছে খাদ্যের মান সংরক্ষণ এবং জনগণ যেন ভেজাল মুক্ত খাদ্য গ্রহণ করতে পারে সেটা সামান্য হোক এ ব্যাপারে আমি আপনার মাধ্যমে মন্ত্রী মহোদয়ের পদক্ষেপ জানতে চাচ্ছি।

জবাবে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্যের উত্থাপিত বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্যে ভেজালের কারণে দেশে ক্যান্সার, কিডনি রোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। এ বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত কনসার্ন।

ভেজালবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরদার করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী ম্যাজিস্ট্রেট, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে সম্প্রতি দীর্ঘ বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে খাদ্যকে কীভাবে ভেজালমুক্ত করা যায় এবং এ লক্ষ্যে মোবাইল কোর্টসহ বিভিন্ন কার্যক্রম আরও কার্যকর করার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।

এ বিষয়ে সুপারিশ দেওয়ার জন্য জনপ্রশাসন উপদেষ্টার নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সেখানে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে ভেজালবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী খাদ্যকে ভেজালমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারের চলমান উদ্যোগের মাধ্যমে এ ক্ষেত্রেও ইতিবাচক সাফল্য অর্জন সম্ভব হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved bijoykantho© 2025