শুক্রবার, ১০ Jul ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ন

চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সপ্তাহ’ ঘোষণা

টানা ভারী বর্ষণ, জলাবদ্ধতা, পাহাড় ও দেয়ালধসের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে আগামী ৯ থেকে ১৫ জুলাই ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সপ্তাহ’ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম মহানগর শাখা।

বুধবার (৮ জুলাই) নগরের বিআইএ কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত মহানগর জামায়াতের জরুরি দায়িত্বশীল বৈঠকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম।

সভাপতির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম বলেন, টানা ভারী বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে চট্টগ্রাম নগরের বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতা, পাহাড় ও দেয়ালধসে মানুষের জানমাল ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আগামী কয়েকদিনও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, বাকলিয়া, বায়েজিদ, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, আগ্রাবাদ, চকবাজার, খাতুনগঞ্জ, ডবলমুরিং, পতেঙ্গা ও হালিশহরসহ নগরের বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে রয়েছে। এতে বহু পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সড়ক ও রেলপথে যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

জলাবদ্ধতা নিরসনে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, জবাবদিহির অভাবে এসব প্রকল্প কাঙ্ক্ষিত ফল দিচ্ছে না। তিনি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, ত্রাণ বিতরণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও জোরদারের আহ্বান জানান।

একই সঙ্গে সামাজিক সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবীদের সমন্বিতভাবে দুর্যোগ মোকাবিলায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

তিনি চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের সব দায়িত্বশীল, সহযোগী সংগঠন এবং সাধারণ জনগণের প্রতি দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে ৯-১৫ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সপ্তাহ’ সফলভাবে পালনের ঘোষণা দেন।

বৈঠকে ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সপ্তাহ’ সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১৯ সদস্যবিশিষ্ট দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়। এতে চট্টগ্রাম মহানগরী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নুরুল আমিনকে আহ্বায়ক, এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ উল্লাহকে যুগ্ম আহ্বায়ক এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে জামায়াত মনোনীত মেয়রপ্রার্থী অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালীকে সদস্য সচিব করা হয়। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন- নগর সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. একেএম ফজলুল হক, সাবেক কাউন্সিলর শফিউল আলমসহ চট্টগ্রাম মহানগরীর ১৪টি সাংগঠনিক থানার সেক্রেটারিরা।

বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নুরুল আমিন, এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ উল্লাহ, ফয়সল মুহাম্মদ ইউনুস ও মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে জামায়াত মনোনীত মেয়রপ্রার্থী অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী, ডা. একেএম ফজলুল হক, ডা. সিদ্দিকুর রহমান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি এস. এম. লুৎফর রহমান, অফিস সম্পাদক হামেদ হাসান ইলাহী, নগর কর্মপরিষদ সদস্য আবু হেনা মোস্তফা কামাল, ড. মাহবুবুর রহমান, আমির হোসাইন, অধ্যক্ষ মাওলানা জাকের হোসাইন, মাওলানা মমতাজুর রহমান, মাহমুদুল আলম, ফখরে জাহান সিরাজী সবুজ, অধ্যাপক মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ, ফারুকে আজম, অধ্যাপক মুহাম্মদ নুরুন্নবী, মুহাম্মদ ইসমাইল এবং ড. আ. ম. ম. মাসরুর হোসাইন, বাকলিয়া থানা আমির সুলতান আহমদ, বায়েজিদ থানা আমির অধ্যাপক জাকের হোসাইন, চকবাজার থানা আমির আহমেদ খালেদুল আনোয়ার, খুলশি থানা আমির আলমগীর ভুঁইয়া, সদরঘাট থানা আমির এম এ গফুর, পাহাড়তলী থানা আমির নুরুল আলম, আকবরশাহ থানা আমির আব্দুল হান্নান চৌধুরী, জামায়াত নেতা শাহজাহান মহিউদ্দিন, ইঞ্জি. রুহুল আমীন, সেলিমুজ্জামান, ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগরী উত্তর সভাপতি মুমিনুল হকসহ মহানগরীর দায়িত্বশীল নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved bijoykantho© 2025