শুক্রবার, ১০ Jul ২০২৬, ১২:১০ পূর্বাহ্ন

বর্তমান সরকার স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রহরী: রিজভী

বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রহরী বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে অনেক দিন অনেক রক্ত ঝরিয়ে, ব্যাপক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে, অনেক আত্মত্যাগের বিনিময়ে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে। এ সরকার স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রহরী হিসেবে কাজ করছে, গণতন্ত্রের নিরাপত্তার প্রহরী হিসেবে কাজ করছে।’

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে রিজভী এসব কথা বলেন। এসময় তিনি রথযাত্রা উৎসব উপলক্ষে হিন্দুধর্মাবলম্বীদের সহযোগিতা করতে নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশ দেন। কেউ যেন কোনো উসকানিতে পড়ে দেশের হাজার বছরের ঐতিহ্যকে কলঙ্কিত না করতে পারে, সে ব্যাপারে সজাগ থাকার কথা বলেন তিনি।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘এই সরকারের বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত আছে। পরাজিত নানা শক্তি চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র করতে পারে, ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার চেষ্টা করতে পারে। তো সেটা যাতে করতে না পারে, এই জন্য আমরা আগে থেকেই সবাইকে সচেতন করছি এবং নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দলের চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে, তারা যাতে একেবারে পাহারাদারের মতো কাজ করেন। হিন্দু ধর্মের ভাই-বোনদের সঙ্গে নেতাকর্মীরা একযোগে কাজ করবেন। শুধু এইবারই নয়, আমরা গত দুর্গাপূজা, তার আগের দুর্গাপূজা, সব পূজাতে আমরা একইভাবে দলের নেতাদের দায়িত্ব দিয়েছিলাম।’

‘হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজা এবং উৎসবে আমরা দেশের নাগরিক হিসেবে তাদের পাশে থেকে, তাদের নিরাপত্তা বিধানের জন্য যে কাজগুলো করেছি, এবারও তাদের এই রথযাত্রা উৎসবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল একইভাবে পাশে থাকবে এবং সঙ্গে থাকবে; যাতে কেউ কোনো উসকানি এবং এটি নিয়ে কোনো রাজনীতি করার সুযোগ সৃষ্টি করতে না পারে,’ যোগ করেন বিএনপির এ নেতা।

তিনি দাবি করেন, ‘আজকে গোটা জাতি ঐক্যবদ্ধ। হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, বৌদ্ধসহ অন্য যেসব নৃগোষ্ঠী আছে, সবাই ঐক্যবদ্ধ। তারা বুঝতে পেরেছেন যে কারা বিভিন্ন সময়ে এই জাতির মধ্যে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করেছে, বিভক্তি কারা করছে এটা তারা বুঝে গেছেন। গত নির্বাচন এবং নানা সম্প্রদায়ের যে পূজা-পার্বণ হয়, উৎসব যেটা হয়, প্রতিটিতে প্রত্যেক সম্প্রদায়ের মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করেছে, কোনো ধরনের অপশক্তি আর আমাদের এই জাতির যে মজবুত ঐক্যকে, এটাকে ভাঙতে পারবে না।’

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘দেশকে সামগ্রিক অগ্রগতির পথে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। সেখানে যাতে কোনো এজেন্টরা উসকানি দিয়ে কোনো কাজ করতে না পারে, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রেখে এ দেশের জনগণ এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল একইভাবে কাজ করবে। অন্য যেসব গণতান্ত্রিক শক্তি ও রাজনৈতিক দল আছে, তাদেরও আমরা আহ্বান জানাচ্ছি- তারাও যাতে একইভাবে কাজ করেন, যাতে রথযাত্রার অনুষ্ঠানটি সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে পারেন হিন্দু ধর্মের ভাইবোনরা।’

প্রধানমন্ত্রীর কাজ তুলে ধরে রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, ‘সাধারণ মানুষ, একেবারে গরিব মানুষের কষ্ট লাঘবের জন্য কর্মসূচি নিয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, পরবর্তীতে হেলথ কার্ড- এগুলোতে সরকার গঠনের পরের দুই-তিনদিন থেকেই তিনি বাস্তবায়ন করে গেছেন। খাল কাটার মাধ্যমে আমাদের নদী-নালাকে আরও বেশি প্রাণবন্ত, আরও বেশি সজীব করে তোলা হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে বন্যার সময় খালে পানি জমবে এবং শুকনো মৌসুমে এটা দিয়ে সেচ কাজ করা হবে, মৎস্য চাষ করা হবে। এই কারণেই তিনি এই বৃহৎ কর্মসূচি- যেটা তার বাবা নিয়েছিলেন, যেটা তার মা নিয়েছিলেন- সেটিকে নিষ্পন্ন করার জন্য, তিনি দিন-রাত বাংলার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটে বেড়াচ্ছেন।’

মাঠ পর্যায়ে কর্মরতদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কর্মসূচি সম্পাদন করার জন্য যারা মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা রয়েছেন, তারা যদি সঠিক তথ্য- কতটুকু কাজ হলো, সেই তথ্য না দেন, তাহলে কিন্তু সরকার যতই ছোটাছুটি করুক, অন্ধকার নেমে আসবে। তাই মাঠপর্যায়ে যাতে গতিশীলতা থাকে, তারা যাতে কোনো ধরনের প্ররোচক হয়ে কাজ না করেন, সরকারের কর্মসূচিগুলোকে যথার্থভাবে বাস্তবায়ন করেন, সেটা দেখভালের আহ্বান জানান তিনি।

প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের খাবার কর্মসূচি প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে প্রায় ১৫০ উপজেলায় ৩০ লাখ প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষার্থীকে তাদের পুষ্টি এবং স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য টিফিন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেসব স্কুলে খাবার খেয়ে শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে, সেখানকার কর্মকর্তাদের জবাবদিহি ও শাস্তির আওতায় আনার দাবি করেন রিজভী।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সহ-প্রচার সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, ছাত্রদলের সহ-সভাপতি তৌহিদুর রহমান আউয়াল প্রমুখ।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved bijoykantho© 2025