বৃহস্পতিবার, ০৯ Jul ২০২৬, ১২:৩০ পূর্বাহ্ন
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ৭৫ লাখ আমানতকারীর আমানত সুদসহ ফেরত দেওয়া হবে। কিন্তু এজন্য কিছু সময় প্রয়োজন। সুদসহ যখন বলছি তখন হেয়ার কাট বাদ যাবে।
বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ সম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ করে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু। তিনি বলেন, যারা জনগণের টাকা লুট করেছে তাদের ডিম থেরাপি দিয়ে টাকা উদ্ধার করা হোক। আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়া হোক।রেহানা আক্তার রানু এমপি বলেন, পাঁচ ব্যাংকে বর্তমানে ৭৫ লাখ আমানতকারীর প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা জমা রয়েছে। পাঁচটি সংকটাপন্ন শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু হওয়ার প্রায় আট মাস পার হলেও গ্রাহকদের আমানত ফেরত পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো দূর হয়নি। সীমিত পরিমাণ অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হলেও বিপুল অঙ্কের আমানত কবে পুরোপুরি ফেরত দেওয়া সম্ভব হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি। ফলে প্রায় ৭৫ লাখ গ্রাহকের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ বাড়ছে।
এর পরেই অর্থমন্ত্রী বলেন, স্পিকার আমি ভীত সন্ত্রস্ত বোধ করছি। অলমোস্ট ওয়ার্নিংয়ের মতো বক্তব্য এসেছে। স্পিকার আমি আগেই বলেছি এটা একটা হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। একটি নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব এটার সঠিক সমাধান দেওয়া। এরই মধ্যে আমি আগেও সংসদে বলেছি যারা আমানতকারী তাদের আমানত সুদসহ ফেরত দেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ। তবে একটু ধৈর্য ধরতে হবে। কারণ এই ব্যাংকের সবগুলোই লোকসানের মধ্যে আছে এবং লোকসান কিন্তু প্রতিদিন বাড়ছে।
তিনি আরও বলেন, লোকসানি একটা ব্যাংক আপনার যেখানে তার আমানত ফিরিয়ে দিতে পারছে না। এবং তাকে সুদ দেওয়া যে কত কঠিন সেটা আপনার বুঝতে হবে। তারপরও একটা নির্বাচিত সরকার হিসেবে জনগণের স্বার্থ সংরক্ষণে নিশ্চিতভাবে তাদের আমানত এবং সুদ ফেরত দেওয়া হবে। কিন্তু এটার জন্য একটা সময়ের প্রয়োজন। এই ব্যাংকগুলো হেয়ার কাট থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, এটার সমাধান একটু মধ্যমেয়াদি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হবে। তবে নিশ্চিতভাবে এটা বলতে পারি। আমানতকারীরা তাদের টাকা ফেরত পাবে, সুদসহ ফেরত পাবে। এটা নিশ্চিতভাবে বলা যাবে। তবে এটার জন্য একটু ধৈর্য ধারণ করতে হবে।
আমানতকারীদের প্রসঙ্গে রেহানা আক্তার রানু বলেন, ‘আমি আবারও অনুরোধ করবো তাদের আমানত ফেরত দেওয়া হোক। আমি জানি তাদের অপেক্ষা করার সময় নেই। মানুষ চিকিৎসার অভাবে মারা যাচ্ছে। মানুষ তার মেয়ের বিয়ে দিতে পারছে না। আমি প্রতিনিয়ত এসব সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি।’