বুধবার, ০৮ Jul ২০২৬, ০২:৪২ পূর্বাহ্ন

চোখে অশ্রু, অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের পর আবেগে ভাসলেন মেসি

এমন স্নায়ু চাপে এর আগের দুটি বিশ্বকাপ ফাইনালেও মেসি ছিলেন কি না সন্দেহ। আগের ম্যাচে কেপ ভার্দেও বেশ পরীক্ষা নিয়েছিল আর্জেন্টিনার। অনেক কঠিন একটি ম্যাচ জিতে শেষ ষোলোয় উঠেছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

কিন্তু তার চেয়েও ম্যাচ কঠিন করে ফেলেছিল আফ্রিকার আরেকটি দেশ মিশর। এবার শুরুতে গোল হজম, এরপর পেনাল্টি। কিন্তু মেসির পেনাল্টি মিসে তৈরি হয় তুমুল একটি হতাশা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আবারও মিশরের গোল। যদিও ভিএআরের কল্যাণে বেঁচে যায় আর্জেন্টিনা। এর কিছুক্ষণ পর আবারও গোল। এবারও এগিয়ে মিশর। নাটকের পর নাটকীয়তা।

এমন হৃদয়ভাঙা চাপে এর আগে আর কখনো আর্জেন্টিনা সমর্থকরা পড়েছিল কি না সন্দেহ। অবশেষে সেই চাপ থেকে মুক্তির মহামিলন। ৭৯তম মিনিটে প্রথমে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর বুলেট গতির হেড, তিন মিনিট ১৫ সেকেন্ডের মাথায় মেসির জাদুকরি এক শট, সমতায় ফিরে আসলো আর্জেন্টিনা। ৯০+২ মিনিটে আরও একটি হেড। এবার এটা নিলেন এনজো ফার্নান্দেজ।

৩-২, প্রচণ্ড চাপ থেকে যেন মুক্তির সোপান রচিত হলো তাতে। বিজয়োল্লাসে মেতে উঠলো মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়াম। সেই ঢেউ মুহূর্তেই আছেড়ে পড়লো পুরো পৃথিবীতে। বাংলাদেশেও তখন বাধভাঙা আনন্দের জোয়ার। মিছিল, আতশবাজি ফোটানো।

কিন্তু যার কারণে তৈরি হয়েছিল স্নায়ুচাপ, মহাতারকার তকমা নিয়ে যিনি করলেন পেনাল্টি মিস, তার হাত ধরেই যখন একটি অ্যাসিস্ট ও একটি গোলে মুক্তির সোপান রচিত হয়, তখন তার কী অবস্থা হতে পারে একবার ভেবে দেখুন!

হ্যাঁ, লিওনেল মেসিও তো মানুষ। স্বাভাবিক আবেগ-অনুভূতি তারও আছে। এমন হৃদয়ভাঙা চাপ থেকে যখন মুক্তি মিললো, তখন তিনিও আর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। মুক্তির আনন্দে কেঁদে দিলেন। শেষ বাঁশি বাজতেই চোখে অশ্রু এলো তার। এ যেন বিশ্বকাপ জয়ের চেয়েও বেশি কিছু। কোচ লিওনেল স্কালোনি এসে জড়িয়ে ধরেন তাকে। এরপর ছুটে এলেন সতীর্থরা।

ম্যাচটি ছিল রোমাঞ্চে ভরপুর। প্রথমার্ধ ও দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে দুর্দান্ত ফুটবল খেলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মিশর। ফলে বিদায়ের শঙ্কায় পড়ে যায় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তেই শুরু হয় আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প।

৭৯তম মিনিটে প্রথমে কর্নার থেকে হেডে গোল করে ব্যবধান কমান ক্রিশ্চিয়ান ‘কুতি’ রোমেরো। এরপর দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন লিওনেল মেসি। ৮৩তম মিনিটে (৩ মিনিট ১৫ সেকেন্ডের মাথায়) বাম পায়ের নিখুঁত শটে সমতা ফেরান তিনি। ম্যাচের শেষদিকে এনজো ফার্নান্দেজ হেডে জয়সূচক গোল করে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন আর্জেন্টিনাকে। শেষ পর্যন্ত সেই ব্যবধানই ধরে রেখে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে লিওনেল স্কালোনির দল।

ম্যাচ শেষে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি মেসি। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই হাঁটু গেড়ে বসে পড়েন তিনি। এরপর চোখের পানি মুছতে দেখা যায় আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই তারকাকে। একে একে সতীর্থরা এসে তাকে জড়িয়ে ধরেন। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এই কঠিন জয় যেন মেসির জন্যও ছিল স্বস্তি আর আবেগের এক বিরল মুহূর্ত।

মিশরের বিপক্ষে করা গোলটি ছিল ২০২৬ বিশ্বকাপে মেসির অষ্টম গোল। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১-এ, যা তার বর্ণাঢ্য বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারে আরেকটি অসাধারণ মাইলফলক।

দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও যেভাবে লড়াই করে জয় তুলে নিয়েছে আর্জেন্টিনা, তাতে দলটির মানসিক দৃঢ়তা আবারও ফুটে উঠেছে। ম্যাচ শেষে খেলোয়াড়দের উদযাপনেও সেই স্বস্তির প্রতিফলন দেখা যায়।

এই জয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। শেষ আটে তারা মুখোমুখি হবে সুইজারল্যান্ড ও কলম্বিয়ার মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ীর। আগামী শনিবার কানসাসে অনুষ্ঠিত হবে সেই গুরুত্বপূর্ণ লড়াই।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved bijoykantho© 2025