বুধবার, ০৮ Jul ২০২৬, ১২:১৭ পূর্বাহ্ন
ঢাকার সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আয়োজিত ‘জুলাই পথযাত্রা’ কর্মসূচির সমাবেশে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং পরবর্তীসময়ে বিস্ফোরণ ও রক্তপাতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতীয় সংসদে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।
সেই সমাবেশে যোগ দিতে গিয়ে তিনি ও সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপিসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এই নজিরবিহীন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন বলে সংসদকে অবহিত করেন।
স্পিকারের মাধ্যমে সরকারের কাছে এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিরোধী দলের রাজনৈতিক সভা-সমাবেশের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে এসব কথা বলেন এনসিপি নেতা আখতার।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎহীন অন্ধকারের মধ্যেই যখন মঞ্চে বক্তব্য চলছিল, তখন হঠাৎ করেই উপস্থিত শ্রোতা ও সাধারণ মানুষের মাঝখানে একটি ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এই শক্তিশালী বিস্ফোরণের ফলে সমাবেশস্থলে মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং চারদিক ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়।
আখতার হোসেন বলেন, বিস্ফোরণের তীব্রতায় বহু মানুষ রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হন এবং সমাবেশস্থলজুড়ে রক্তের দাগ ছড়িয়ে পড়ে। এই চরম বিশৃঙ্খল ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে সমাবেশ সংক্ষিপ্ত করতে বাধ্য হন নেতৃবৃন্দ। পরে তারা আইনি সহায়তার জন্য স্থানীয় থানায় যান এবং পুরো বিষয়টি অবহিত করেন।
তিনি আরও বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সরকারি দলের যেমন নির্বিঘ্নে সমাবেশ করার অধিকার রয়েছে, তেমনি বিরোধী দলগুলোরও একই ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের অধিকার সংবিধান নিশ্চিত করেছে। সেই গণতান্ত্রিক অধিকারের অংশ হিসেবেই জুলাই মাসকে কেন্দ্র করে এনসিপি দেশব্যাপী ‘জুলাই পথযাত্রা’ কর্মসূচির ডাক দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল সাভারে একটি সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাহিদ ইসলাম এমপি। কিন্তু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ মঞ্চে ওঠার ঠিক আগ মুহূর্তে রহস্যজনকভাবে পুরো এলাকার বিদ্যুতের লাইন কেটে দেওয়া হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল করার কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
আখতার হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তারা যখনই জুলাইয়ের চেতনাকে কেন্দ্র করে কোনো আন্দোলন, সংগ্রাম বা কর্মসূচি ঘোষণা করেন, তখনই একটি নির্দিষ্ট মহল নানাভাবে তাদের বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টায় মেতে ওঠে। এর আগেও তাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক তৈরি করা হয়েছিল। গতকালের সাভারের বিস্ফোরণটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে তিনি নিজে, বিরোধীদলীয় চিফ এবং তাদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এক চরম জীবননাশের ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারতেন। যারা জুলাইয়ের আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন এবং যারা বর্তমানে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছেন, তাদের নিরাপত্তা ও এই দুষ্কৃতকারীদের দমনে সরকারের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ কী, তা তিনি জানতে চান।
সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে জবাব দাবি করেন এই সংসদ সদস্য। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিরোধীদলের সমাবেশের সময়েই কেন বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলো এবং কেন প্রকাশ্য দিবালোকে বা জনাকীর্ণ সমাবেশে এই ধরনের অপরাধীরা বিস্ফোরণ ঘটানোর সুযোগ পাচ্ছে। একই সঙ্গে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না এবং বিরোধী দলের নির্বিঘ্নে সভা-সমাবেশ করার অধিকার রাষ্ট্র নিশ্চিত করবে কি না, সে বিষয়ে সংসদ ও সরকারের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেন তিনি।
এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের উত্থাপিত এই জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের জবাব দিতে দাঁড়িয়ে আইনমন্ত্রী সংসদকে আশ্বস্ত করে বলেন যে, সাভারের এই ঘটনাটি সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতার সঙ্গে বিবেচনা করছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যারাই জড়িত থাকুক না কেন, তাদের চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ কঠোর ও স্বচ্ছ পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি। আইনমন্ত্রীর এই আশ্বাসের পর স্পিকার সংসদের পরবর্তী নির্ধারিত কার্যসূচিতে প্রবেশ করেন।