বৃহস্পতিবার, ০৯ Jul ২০২৬, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন
খাগড়াছড়ি জেলায় টানা ও অতি ভারী বর্ষণের ফলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পাহাড়ি ঢলে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে সড়ক যোগাযোগ এবং নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চল।
খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা-লংগদু সড়কের মেরুং অংশ এবং দীঘিনালা-সাজেক সড়কের কবাখালি অংশে পানি উঠে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মেরুং ইউনিয়নের হেডকোয়ার্টার ব্রিজ এবং সড়কের বিভিন্ন অংশ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বড় মেরুং, বামে আটারকছড়া ও তেঁতুল এলাকাতেও সড়ক ডুবে রয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেল থেকে দীঘিনালার সঙ্গে লংগদুর সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। শুধু দূরপাল্লার যানই নয়, স্থানীয় বাসিন্দারাও যাতায়াত করতে পারছেন না। অনেককেই কোমর পর্যন্ত পানিতে ভিজে পথ পাড়ি দিতে দেখা গেছে।
এছাড়াও জেলার অন্যান্য প্রধান নদী যেমন মাইনী ও চেঙ্গীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ছড়া ও খালের পানি উপচে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। অনেক সড়ক ও বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা অবর্ণনীয় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। মানুষ ও গবাদি পশুকে বাঁচাতে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিল পারভেজ বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় দুর্যোগ টিম গঠন করেছি। মেরুং রাজার সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ২৫ পরিবারসহ উপজেলার অন্যান্য আশ্রয় কেন্দ্রে শতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। জনপ্রতিনিধিদেরও নিজ নিজ এলাকার আশ্রয় কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মেডিকেল টিম, ফায়ার সার্ভিস টিম এবং রেড ক্রিসেন্ট সদস্যদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য। উপজেলায় ২১টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। মেরুং এলাকায় একটি আশ্রয় কেন্দ্রে মঙ্গলবার রাতে শতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। তাদের খাবার ও সুপেয় পানি দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের ঝুঁকিও বেড়েছে। টানা বৃষ্টিতে ইতোমধ্যে খাগড়াছড়ি ও মহালছড়ি সড়কের সিন্দুকছড়ি এবং গুইমারা সড়কে পাহাড় ধসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। জেলা প্রশাসন পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী পরিবারদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে যেতে বারবার অনুরোধ করছে।
জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, জেলায় ১৩৫ টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে দুই শতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে তবে এই পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। বিভিন্ন স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজ রয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া আছে।