শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০২:১৭ পূর্বাহ্ন
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর ও ভৈরবে পৃথক তুচ্ছ ঘটনার জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত টানা পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলা এসব সংঘর্ষে দুই উপজেলা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত বাজিতপুর বাজারের এমপি মার্কেটের সামনে এবং একই সময়ে ভৈরব পৌর শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের সময় টর্চলাইট জ্বালিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষকে হামলা ও পাল্টা হামলায় অংশ নিতে দেখা যায়।
স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যায় বাজিতপুর উপজেলা সদরের এমপি মার্কেটের সামনে একটি মুঠোফোনের দোকানের ভেতরে দরিঘাগটিয়া এলাকার কালাম ও কৈলাগ এলাকার জিদানের মধ্যে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে উপজেলা সদরে জড়ো হন এবং সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে উভয় পক্ষের অন্তত শতাধিক ব্যক্তি আহত হন।
এ বিষয়ে বাজিতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম শহিদুল্লাহ জানান, তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও বিভিন্ন দিক থেকে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলতে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
অন্যদিকে, ভৈরবে ফেসবুকে পোস্ট করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে টানা পাঁচ ঘণ্টা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ১৫ জনের বেশি আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত রাহাদ নামের এক যুবককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সংঘর্ষের সময় বেশ কয়েকটি দোকান ভাঙচুর করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, ভৈরব পৌর শহরের ভৈরবপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার মীরবাড়ির বাসিন্দা সিরাজ মিয়ার ছেলে মাওলানা শাহরিয়ার তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি লেখা ও ভিডিও পোস্ট করেন। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, আমেরিকা প্রবাসী ইকবাল মিয়া নামে এক ব্যক্তি ভৈরবপুর দক্ষিণপাড়া এলাকায় স্থানীয় লোকজনের জায়গা জোরপূর্বক দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন।
এ পোস্টকে কেন্দ্র করে একই এলাকার আমজাদ আলীর বাড়ির দুলাল মিয়ার ছেলে রায়হান মিয়ার সঙ্গে শাহরিয়ারের তর্কাতর্কি হয়। এর জেরে সন্ধ্যায় দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে এম মামুনুর রশীদ, ভৈরব থানার ওসি মাহবুবুর রহমানসহ এসআরবির সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। পরে পাঁচ ঘণ্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
ভৈরব থানার ওসি মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।