মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৫১ অপরাহ্ন
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা কিংবা মনস্তাত্ত্বিক চাপ—কোনো কিছুতেই ইরানকে নতজানু করা যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ইরানের জনগণ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কখনো আপস করবে না। বরং শত্রুপক্ষ কোনো ভুল পদক্ষেপ নিলে তার জবাব হবে কল্পনাতীত। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, যুদ্ধ এড়ানোর দায়িত্ব এখন যুক্তরাষ্ট্রের কাঁধেই।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) পার্লামেন্টের অধিবেশনের শুরুতে দেওয়া বক্তব্যে কলিবফ এসব কথা বলেন।
তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের লক্ষ্য ইরানকে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা। অতীতে অনুগত ও নির্ভরশীল শাসকদের মাধ্যমে দেশটিকে নিজেদের ইচ্ছার কাছে নত করতে চেয়েছিল ওয়াশিংটন। কিন্তু স্বাধীনচেতা ও ঐক্যবদ্ধ ইরানি জনগণের প্রতিরোধের মুখে সেই কৌশল ব্যর্থ হয়েছে। এখন সামরিক চাপ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের মাধ্যমে ইরানকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে।
কলিবফের ভাষায়, ইরানের জনগণের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুতার অন্যতম প্রধান কারণ হলো দেশটির স্বাধীন অবস্থান এবং আধিপত্যবাদী লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাঁড়ানো। ইরানের স্বাধীনতাকামী মনোভাব বিশ্বের অন্যান্য স্বাধীনতাপ্রত্যাশী জাতির কাছেও অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছে বলে দাবি করেন তিনি।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার আরও বলেন, ইরানি জনগণের ঐক্য ও প্রতিরোধ যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। সামরিক হুমকি ও হামলার মাধ্যমে ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার চেষ্টা বারবার ব্যর্থ হয়েছে। তবু একই ধরনের চাপ প্রয়োগের কৌশল অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, ইরান আত্মসমর্পণ করবে না। পরাধীন ও অনুগত শাসনামলে হয়তো এমন স্বপ্ন দেখা সম্ভব ছিল, কিন্তু বর্তমান ইরানের বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন।
গালিবাফের দাবি, সাম্প্রতিক দুটি চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের বুঝিয়ে দিয়েছে যে, আধিপত্য বিস্তারের পুরোনো কৌশল আর আগের মতো কার্যকর নয়।
সম্ভাব্য শত্রু হামলার বিষয়ে সামরিক প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক ইতোমধ্যে সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় সামরিক কৌশল নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সেই কৌশল অনুযায়ী, প্রতিপক্ষ কোনো ভুল হিসাব করলে ইরানের সামরিক ও কৌশলগত প্রতিক্রিয়া হবে তাদের কল্পনারও বাইরে।
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রতিপক্ষের ভৌগোলিক অবস্থান কিংবা সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় না নিয়েই তাদের হিসাব-নিকাশ এবং বস্তুগত ও অবস্তুগত সক্ষমতার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলার মতো জবাব দেওয়া হবে।
আঞ্চলিক দেশগুলোর উদ্দেশে গালিবাফ বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকেও শক্তিশালী ও স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি বলেন, এখন বল যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে। সংঘাত এড়াতে চাইলে উদ্যোগ নিতে হবে ওয়াশিংটনকেই।