রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২২ পূর্বাহ্ন
নেত্রকোনায় নিখোঁজের ছয় দিন পর নাজু আক্তার খাতুন (৩৪) নামের এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার সাবেক স্বামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত নুরুল আমিন (৪০) নাজু আক্তারকে হত্যার পর মরদেহ গুম করা হয় বলে স্বীকার করেছেন।
নিহত নাজু আক্তার নেত্রকোনা সদর উপজেলার কাটলী এলাকার ইসলাম উদ্দিনের মেয়ে। নুরুল আমিনের বাড়ি একই উপজেলার নগুয়া কুশলগাঁও এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে নাজু আক্তার নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় তার ছোট ভাই (১৪) ২২ সেপ্টেম্বর নেত্রকোনা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। এরপর পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তের একপর্যায়ে নাজু আক্তারের সাবেক স্বামী নুরুল আমিনকে সন্দেহজনক হিসেবে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি পুলিশকে জানান, ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় কীটনাশক কেনার জন্য তিনি নেত্রকোনা শহরে এসেছিলেন। পরে নাজু আক্তার তাকে ফোন করেন। তারা বড়বাজার এলাকায় দেখা করেন। এসময় নাজু আক্তার তার ফোন নিয়ে নেন এবং দুজনের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের সরিয়ে দেন।
পুলিশের কাছে নুরুল আমিনের দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়, ভরণপোষণের ছয় হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলে তিনি নাজু আক্তারকে সঙ্গে নিয়ে তেরিবাজার মোড় থেকে রিকশায় রাজুরবাজার এলাকায় যান। পরে ভাড়ায় মোটরসাইকেলে করে তারা মৌগাতী ইউনিয়নের খাটপোড়া ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় যান। রাত সাড়ে ১০টার দিকে সেখানে টাকা নিয়ে তাদের মধ্যে আবারও তর্ক হয়।
পুলিশের দাবি, একপর্যায়ে নুরুল আমিন নাজু আক্তারের বুকে আঘাত করলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে তাকে পাশের শ্মশানঘাটে নিয়ে গিয়ে ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, নাজু আক্তারের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর নুরুল আমিন মরদেহ কাঁধে করে তার বাড়ির পাশের ঢুকিয়ালী নদীর পাড়ে নিয়ে যান। সেখানে বাড়ি থেকে কোদাল এনে গর্ত করে মরদেহ মাটিচাপা দেন।
পুলিশ জানায়, নুরুল আমিন ও নাজু আক্তারের প্রায় ১৪ বছর আগে বিয়ে হয়। তাদের দুই সন্তান রয়েছে। পারিবারিক বিরোধের জেরে তাদের মধ্যে একাধিকবার বিচ্ছেদ হলেও পরে তারা আবার একসঙ্গে বসবাস করেছিলেন।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, এ ঘটনায় তার স্বামীকে আটক হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে।