শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১০:০৭ অপরাহ্ন
আদর্শিক জনশক্তি থাকলে নির্বাচনের যাবতীয় ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ।
তিনি বলেছেন, নির্বাচনে বিজয়ী হতে গিয়ে কোনোভাবেই আদর্শ বিসর্জন দেওয়া যাবে না। অর্থের কাছে আদর্শ বিকিয়ে দেওয়া যাবে না। আদর্শিক জনশক্তি থাকলে নির্বাচনের যাবতীয় ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব। প্রার্থীদের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও নীতি-আদর্শের কারণেই জামায়াতের প্রতি গণমানুষের সমর্থন রয়েছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম মহানগরী শাখার উদ্যোগে আয়োজিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনি এজেন্ট প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নগরীর চকবাজারের আনিকা কমিউনিটি সেন্টারে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
ড. হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে স্থানীয় সরকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি সংগঠনের একার পক্ষে জনগণের শতভাগ সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। স্থানীয় সরকারে কার্যকর ভূমিকা রাখার মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং তাদের অধিকার আদায়ে কাজ করা সম্ভব। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার নেতৃত্ব বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র আট মাসের মাথায় কোনো সরকারের জনপ্রিয়তা তলানিতে নেমে এসেছে। মানুষের মুখে মুখে সরকারের ব্যর্থতার আলোচনা চলছে। একটি সরকার কীভাবে পরিচালনা করতে হয়, সে বিষয়ে তাদের যথেষ্ট ধারণার অভাব রয়েছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনে পেশিশক্তি ও কালোটাকার ব্যবহার করে জনগণের ভোটাধিকার হরণ কিংবা ভোট কারচুপির কোনো ষড়যন্ত্র জামায়াতে ইসলামী মেনে নেবে না। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ ও সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে।
কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচন, রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও গণভোটসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার কার্যকর ভূমিকা রাখছে না। সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন এবং গণভোটের বিষয়ে সরকারের অনীহা রাজনৈতিক সংকট আরও বাড়িয়ে তুলছে। জনগণের প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করা হলে সরকারকে এর রাজনৈতিক মূল্য দিতে হবে।
মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জন্মনিবন্ধনসহ দৈনন্দিন নাগরিক সেবা পেতেও মানুষকে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। নাগরিক অধিকার ও সেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করা প্রয়োজন। জামায়াতে ইসলামী নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচনে অংশ নিয়ে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দেশ ও সমাজের কল্যাণে ভূমিকা রাখতে চায়। এ জন্য নির্বাচনি এজেন্টদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সফলতা অর্জনে তৃণমূল সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে হবে। ওয়ার্ড ও ইউনিট পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি নির্বাচনি দায়িত্ব পালনে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে হবে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে যোগ্য ও প্রশিক্ষিত এজেন্ট নিশ্চিত করা, ভোটার তালিকা পর্যালোচনা এবং নির্বাচনি আইন ও বিধিবিধান সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা অর্জন করতে হবে।
কর্মশালায় আরও বক্তব্য দেন নগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ উল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক ও মেয়রপ্রার্থী অধ্যক্ষ মুহাম্মদ শামসুজ্জামান হেলালী, নগর কর্মপরিষদ সদস্য ও মাস্টার ট্রেইনার অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুন্নবী, মাস্টার ট্রেইনার প্রফেসর মোহাম্মদ সিরাজুদ্দৌলা প্রমুখ।
এ সময় নগর জামায়াতের অফিস সম্পাদক হামেদ হাসান ইলাহী, সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাহফুজুল আলমসহ মহানগরী, থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।