মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০০ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
দেশবাসী অপেক্ষা করছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কবে পদত্যাগ করবেন: নাহিদ ইসলাম ‘ইশরাকের হাতে অস্ত্রটা না থাকলে ভালো হতো, কাজকে নেগেটিভ বলার সুযোগ নেই’:জামায়াত আমির ভূরুঙ্গামারীতে বিকাশ-রকেট ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে টাকা ও ৫ মোবাইল ছিনতাই নাটোরে বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত ১৪ সংঘাত ফের শুরু হলে আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেবে: ইরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি শিশুকে স্পেসএক্সের শেয়ার উপহার দেবেন ইলন মাস্ক টাঙ্গাইলে বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সুপারভাইজারসহ নিহত দুই চাঁদা তুলতে যাইনি, মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গেছি: ইশরাক চট্টগ্রামে বিদ্যুতের ছেঁড়া তারে জড়িয়ে যুবক নিহত স্কুলে মারামারিতে জড়ানো সেই শিক্ষক দম্পতিকে উপজেলার দুই প্রান্তে বদলি

‘ইশরাকের হাতে অস্ত্রটা না থাকলে ভালো হতো, কাজকে নেগেটিভ বলার সুযোগ নেই’:জামায়াত আমির

ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, তার হাতে অস্ত্রটা না থাকলে ভালো হতো।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) চট্টগ্রাম সফরে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

পুরান ঢাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে নিজ হাতে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় বিতর্ক ও সমালোচনার মুখে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ইশরাক হোসেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বিরোধীদলীয় নেতা সরকারের এই পদক্ষেপ এবং ইশরাক হোসেনের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, মাদক সমাজ ও দেহকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ইশরাকের যা করা দরকার ছিল, তিনি তা করেছেন। ওই অভিযানে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। তার হাতে অস্ত্রটা না থাকলে ভালো হতো এতটুকু। তার কাজকে কেউ নেগেটিভ বলার সুযোগ নেই।

তিনি হয়তো ভালো নিয়তেই করেছিলেন। কিন্তু খারাপ নিয়তে প্রয়োগ করার মানুষের তো এই সমাজে অভাব নেই। তারা রেফারেন্স হিসেবে এটাকে ইউজ করে। তবে তার কাজের ব্যাপারে তো এখানে আপত্তি করার কিছু নেই।

তিনি বলেন, কোনো কাজের উদ্দেশ্য ভালো হলেই সব ক্ষেত্রে সেই কাজের পদ্ধতি গ্রহণযোগ্য হয়ে যায় না। এ ধরনের বিষয় নাগরিক আচরণের দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

মাদক নির্মূলের বিষয়ে জামায়াতের অবস্থান তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংসদে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন পাশ হয়েছে। তবে তাদের লক্ষ্য শুধু মাদক নিয়ন্ত্রণে সীমাবদ্ধ নয়, তারা মাদক নির্মূল করতে চান। মাদকের বিস্তার রোধে আইন প্রণয়নের পাশাপাশি বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও তৎকালীন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন সম্প্রতি নিজ এলাকা পুরান ঢাকার গেণ্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে যান। অভিযানকালে তার হাতে পিস্তল উঁচিয়ে থাকার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। প্রতিমন্ত্রীর সহযোগীদের হাতেও অস্ত্র ও বলপ্রয়োগের চিত্র দেখা যায়। একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রীর এভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং অস্ত্র প্রদর্শন নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে প্রশ্ন ওঠে।

বিতর্কের জের ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনার পর গত সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘোষণা দেন ইশরাক হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক তার অবস্থানের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, আমার নামে দুটি বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স রয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থেই সাময়িকভাবে অস্ত্রটি হাতে রেখেছিলাম, পরে তা আর দেখা যায়নি। আমি বিশ্বাস করি সেদিন কোনো ভুল করিনি। তবে সরকার বা প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ড যেন আমার কারণে ম্লান না হয়, সেজন্যই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

তিনি আরও জানান, প্রতিমন্ত্রীর পদে না থাকলেও একজন সাধারণ নাগরিক ও দলীয় কর্মী হিসেবে এলাকাকে মাদকমুক্ত করার সামাজিক আন্দোলন তিনি অব্যাহত রাখবেন।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved bijoykantho© 2025