সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৪ অপরাহ্ন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি শিশুকে নিজের মহাকাশ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের একটি করে শেয়ার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবের ইলন মাস্ক। তবে কীভাবে কোটি কোটি শিশুর মধ্যে এসব শেয়ার বিতরণ করা হবে, কারা এ সুবিধা পাবে কিংবা ঘোষণাটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া কী হবে- তা নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মাস্ক লেখেন, আগামী বছর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি শিশুকে আমি স্পেসএক্সের একটি করে শেয়ার দেবো। এটি হবে এমন অনেক উদ্যোগের প্রথমটি।
চলতি বছরের জুনে ইতিহাসের বৃহত্তম প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) পর শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু করে স্পেসএক্স। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বাজার বন্ধ হওয়ার সময় প্রতিষ্ঠানটির প্রতিটি শেয়ারের দাম ছিল প্রায় ১৪৬ ডলার।
যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে ১৮ বছরের কম বয়সী মানুষের সংখ্যা প্রায় ৭ কোটি ৩০ লাখ। বর্তমান শেয়ারমূল্য ধরে প্রত্যেককে একটি করে শেয়ার দেওয়া হলে এর মোট মূল্য দাঁড়াবে প্রায় ১০৭০ কোটি ডলার।
তবে এত বিপুলসংখ্যক শিশুর কাছে শেয়ার পৌঁছে দেওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে মাস্ক কোনো ব্যাখ্যা দেননি। যুক্তরাষ্ট্রের সব শিশু এ সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হবে কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়।
শিশু-কিশোরদের শেয়ারবাজারে অংশীদার করার ধারণা অবশ্য নতুন নয়। চলতি মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস’ নামে নতুন একটি ফেডারেল সঞ্চয় ও বিনিয়োগ কর্মসূচিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাখ লাখ শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। ২০২৫ সালের শুরু থেকে ২০২৮ সালের শেষ পর্যন্ত জন্ম নেওয়া শিশুরা এ কর্মসূচির আওতায় এককালীন এক হাজার ডলারের সরকারি অনুদান পাওয়ার যোগ্য।
এদিকে, গত জুলাইয়ে স্পেসএক্সের প্রেসিডেন্ট গুইন শটওয়েল ও তার স্বামীও শেয়ার দানের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, এরই মধ্যে অ্যাকাউন্ট খোলা প্রায় ২০ লাখ শিশুর প্রত্যেককে স্পেসএক্সের একটি করে শেয়ার দেওয়া হবে। তারা জানিয়েছেন, এক্ষেত্রে নিম্ন আয়ের পরিবারের শিশু ও স্পেসএক্সের সদর দপ্তর অবস্থিত টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের শিশুদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
অ্যানথ্রপিকের ঘোষণার পর মাস্কের পাল্টা প্রস্তাব
মাস্কের এ ঘোষণা এসেছে মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের একটি উদ্যোগের পর। রোববার (১৮ অক্টোবর) প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তাদের মোট শেয়ারের অন্তত ৫ শতাংশ একটি ‘পাবলিক বেনিফিট ফান্ডে’ দেওয়া হবে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই শেয়ারের মূল্য প্রায় ৪ হাজার ৮০০ কোটি ডলার।
অ্যানথ্রপিকের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, এ তহবিল থেকে সামাজিক কল্যাণমূলক কাজে অর্থ দেওয়া হবে। অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বড় অঙ্কের অনুদান দেওয়ার পাশাপাশি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর মধ্যে সরাসরি অর্থ বিতরণের ব্যবস্থাও থাকতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে মানুষের কর্মসংস্থানে যে প্রভাব পড়তে পারে, তা মোকাবিলায়ও এ অর্থ কাজে লাগতে পারে।
বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি মাস্ক এক্সে অ্যানথ্রপিকের উদ্যোগের জবাবে লেখেন, আমি শেয়ারগুলো সরাসরি সাধারণ মানুষের হাতে দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। আমিও সেটাই করবো।
২০১২ সালে ‘গিভিং প্লেজ’-এ স্বাক্ষর করেন মাস্ক। এটি বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের একটি অঙ্গীকার, যার আওতায় তারা জীবদ্দশায় অথবা মৃত্যুর পর উইলের মাধ্যমে নিজেদের সম্পদের অধিকাংশ দাতব্য কাজে দান করার প্রতিশ্রুতি দেন।
মাস্কের দাতব্য সংস্থা মাস্ক ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, মহাকাশ অনুসন্ধান ও শিশুদের স্বাস্থ্যবিষয়ক গবেষণাসহ কয়েকটি ক্ষেত্রে অনুদান দেয় প্রতিষ্ঠানটি।
তবে গত বছর প্রকাশিত নিউইয়র্ক টাইমসের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ মাস্ক ফাউন্ডেশনের সম্পদের পরিমাণ ছিল ১৪ বিলিয়ন বা ১৪০০ কোটি ডলারের বেশি। এই হিসাবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ দাতব্য সংস্থা। কিন্তু পত্রিকাটির বিশ্লেষণে বলা হয়, ওই বছর ফাউন্ডেশনটির অনুদানের বড় অংশ গেছে মাস্কের ব্যবসায়িক স্বার্থের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে। এ অভিযোগ নিয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও স্পেসএক্স তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি।
সূত্র: সিএনএন