সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৮ অপরাহ্ন

স্কুলে মারামারিতে জড়ানো সেই শিক্ষক দম্পতিকে উপজেলার দুই প্রান্তে বদলি

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে মারামারির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় সম্প্রতি আলোচনায় এসেছেন এক শিক্ষক দম্পতি। এ ঘটনার পর একই উপজেলার দুই প্রান্তের দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। তাদের কর্মস্থলের মধ্যে দূরত্ব প্রায় ৩২ কিলোমিটার।

বদলি হওয়া দুই শিক্ষক হলেন ফুলবাড়ীয়া উপজেলার আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন ও সহকারী শিক্ষক আছমা খাতুন। তারা সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। প্রথমে আছমা খাতুনকে বদলি করা হয়। পরে তার স্বামী আফজাল হোসেনকেও অন্য বিদ্যালয়ে বদলির আদেশ দেওয়া হয়।

রোববার (১৮ অক্টোবর) ময়মনসিংহ বিভাগীয় উপপরিচালক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেনকে উপজেলার বৈদ্যবাড়ি পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলির আদেশ দেন। এর আগে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম সহকারী শিক্ষক আছমা খাতুনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করে তাকে কাহালগাঁও দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৈদ্যবাড়ি পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি উপজেলার উত্তর প্রান্তে এবং কাহালগাঁও দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত। ফলে দুই শিক্ষকের নতুন কর্মস্থলের মধ্যে দূরত্ব প্রায় ৩২ কিলোমিটার।

গত ৫ অক্টোবর ফুলবাড়ীয়া উপজেলার রাঙামাটিয়া ইউনিয়নের আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে শিক্ষক দম্পতির ধস্তাধস্তি ও মারামারির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়ভাবে ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার ১০ থেকে ১২ দিন আগে বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে ওই দুই শিক্ষকের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। ২০০৪ সালে তাদের বিয়ে হয়। তাদের এক মেয়ে রয়েছে। উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।

প্রায় ১৪ বছর ধরে আফজাল হোসেন ও আছমা খাতুন আলাদা থাকছেন। পারিবারিক বিরোধের জেরে তাদের মধ্যে আদালতে মামলাও চলমান। দুজনই ২০১১ সালের দিকে আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেন। দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের প্রভাব তাদের কর্মস্থলেও পড়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বিদ্যালয়ে তাদের মধ্যে একাধিকবার প্রকাশ্যে ঝগড়ার অভিযোগও রয়েছে।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ঘটনার তদন্ত করেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন বলেন, ‌‘আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেনকে বৈদ্যবাড়ি পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। এর আগে সহকারী শিক্ষক আছমা খাতুনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করে তাকেও অন্য বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ঘটনার দৃশ্য দেখা গেছে। শিক্ষক দম্পতির মধ্যে আগে থেকেই মনোমালিন্য ও ঝগড়াঝাঁটি ছিল। ঘটনার দিন পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের এক সাবেক সহকর্মীর মাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved bijoykantho© 2025