শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪০ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
কোরআনে হাফেজদের নেতৃত্বের আসনে দেখতে চাই: জামায়াত আমির সৌদি আরবগামী ১০৭ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে ১৬ হাজার যাত্রী ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার: দুর্গাপূজার শুভেচ্ছাবার্তায় প্রধানমন্ত্রী ধর্ম-বর্ণের কারণে বৈষম্য নয়, সমঅধিকার নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির শ্রমিক আন্দোলনকে অধিকারভিত্তিক ধারায় এগিয়ে নিতে হবে: গোলাম পরওয়ার এআই যুগের চাহিদা মেটাতে কারিগরি শিক্ষায় জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ : শিক্ষামন্ত্রী সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ও তার পরিবারের ৮৩ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ পাকিস্তানে স্কুল ভবন ধসে শিক্ষার্থী-শিক্ষকসহ নিহত ২১ সিজদায় নবীজির (সা.) অনন্য ২ দোয়া ভাঙ্গুড়ায় জামায়াতের উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন কার্যক্রম

এআই যুগের চাহিদা মেটাতে কারিগরি শিক্ষায় জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ : শিক্ষামন্ত্রী

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটালাইজেশন ও সবুজ প্রযুক্তির প্রসারে বিশ্বজুড়ে পরিবর্তিত শ্রমবাজারের চাহিদা মেটাতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণকে (টিভেট) প্রধান হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করছে বাংলাদেশ। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সঙ্গে কর্মসংস্থানের সরাসরি সংযোগ তৈরি করতে কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়ন এবং শিল্পখাতের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ জাতীয় ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) চীনের তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড ভোকেশনাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট কনফারেন্স ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে জাতীয় বক্তব্যে এসব কথা বলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিয়ানজিন মেইজিয়াং কনভেনশন অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে আয়োজিত এ সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘টিভেট: পরিবর্তনকে যৌথভাবে গ্রহণ, যৌথভাবে মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা এবং যৌথভাবে ভবিষ্যৎ নির্মাণ’। এতে ৪০টিরও বেশি দেশের শিক্ষামন্ত্রী, ১০০টিরও বেশি দেশের সরকারি প্রতিনিধিদল, ইউনেস্কোর প্রতিনিধি, শিল্পখাতের শীর্ষ কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান ও কারিগরি শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা অংশ নিয়েছেন।

জাতীয় বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রধান সম্পদ তার জনগণ। মানবসম্পদই জাতীয় অগ্রগতির মূল ভিত্তি। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এমন একটি সেতুবন্ধন, যা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাকে কর্মসংস্থানের সঙ্গে, একাডেমিক জ্ঞানকে বাস্তব প্রয়োগের সঙ্গে এবং তরুণদের সম্ভাবনাকে উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করে।

ভবিষ্যতের অর্থনীতির চাহিদা পূরণে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক বা একাডেমিক শিক্ষা যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থায় ব্যবহারিক, প্রযুক্তিগত ও ডিজিটাল দক্ষতার সমন্বয় জরুরি। এ জন্য পরিবর্তিত প্রযুক্তি ও শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী কারিগরি শিক্ষাকে আধুনিক করতে হবে।

বাংলাদেশের টিভেট সংস্কার কার্যক্রম কেবল নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় জানিয়ে এহছানুল হক মিলন বলেন, সরকার একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় ইকোসিস্টেম গড়ে তুলছে। এর আওতায় পাঠ্যক্রমকে শিল্পখাতের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা, শিক্ষকদের পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত রাখা, শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শিল্পভিত্তিক প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি এবং জাতীয় যোগ্যতা কাঠামোর সঙ্গে কর্মসংস্থান ও জীবিকার সুযোগ যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থাকে উৎপাদনশীলতা, উদ্ভাবন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় উন্নয়নের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত করা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গত জুনে চীন সফরের প্রসঙ্গ তুলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ওই সফরে দুই দেশ শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। চীনের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষা খাতের আধুনিকায়ন, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিক্ষার সংযোগ বৃদ্ধি, শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিল্পভিত্তিক ব্যবহারিক শিক্ষার প্রসারে কাজ করা হচ্ছে।

সম্মেলনের প্রতিপাদ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি তিনটি আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী।

প্রথমত, উদীয়মান প্রযুক্তি ও পরিবর্তিত কর্মপরিবেশের সঙ্গে তাল মেলাতে জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও অভিযোজনক্ষম ও গতিশীল করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার বৈশ্বিক মানদণ্ড নিজ নিজ দেশের অর্থনীতি, শ্রমবাজার ও উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে।

তৃতীয়ত, সরকার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিল্পখাত, নিয়োগদাতা, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও তরুণদের মধ্যে অংশীদারত্ব জোরদার করতে হবে।

সম্মেলনের ফাঁকে চীনের শিক্ষা উপমন্ত্রী রেন ইউছুয়েনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন। বৈঠকে বাংলাদেশের বিদ্যমান কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, যৌথ কারিগরি শিক্ষা কর্মসূচি চালু এবং বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চীনা সরকারি বৃত্তির সুযোগ সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হয়।

এ ছাড়া বাংলাদেশে ‘বাংলাদেশ-চীন যৌথ কারিগরি ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। এসব অগ্রাধিকারমূলক সহযোগিতা উদ্যোগ বাস্তবায়নে দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে।

সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চীনের শিক্ষামন্ত্রী হুয়াই জিনপেং, চীনের স্টেট কাউন্সিলের ভাইস প্রিমিয়ার দিং শুয়েশিয়াং, তিয়ানজিনের মেয়র ঝাং গং, মালয়েশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আহমাদ জাহিদ হামিদি এবং ইউনেস্কোর ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved bijoykantho© 2025