শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৮ অপরাহ্ন

বিপৎসীমার ওপরে গঙ্গার পানি, খুলে দেওয়া হয়েছে ফারাক্কার সব গেট

পশ্চিমবঙ্গের ​মুর্শিদাবাদে গঙ্গা নদীর পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার অনেকটা ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফারাক্কা ব্যারেজের মোট ১০৯টি গেটের সবকটিই খুলে দেওয়া হয়েছে।

ফারাক্কা ব্যারেজের জেনারেল ম্যানেজার আর ডি দেশপান্ডে জানান, ব্যারেজের উজানের দিক থেকে (আপারস্ট্রিম) নিচের দিকে (ডাউনস্ট্রিম) গঙ্গার পানি নামছে ও প্রায় ১৬ লাখ কিউসেক পানি ছাড়া হয়েছে। এর মধ্যে ফিডার ক্যানেল দিয়ে ছাড়া হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার কিউসেক।

সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ফারাক্কায় স্রোতের অনুকূলে (ডাউনস্ট্রিম) গঙ্গার পানিস্তর বর্তমানে প্রায় ২৩.৭৫ মিটার বা প্রায় ৮০ ফুট উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা ২২.২৫ মিটারের (প্রায় ৭৩ ফুট) বিপৎসীমা থেকে প্রায় ১.৫ মিটার (৪.৯২ ফুট) ওপরে। তবে আগামী দু’দিনের মধ্যে পানির স্তর কিছুটা কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

​ফারাক্কার স্থানীয় বাসিন্দা ছোটন ঘোষ বলেন, বর্তমানে ভালোই পানি বেড়েছে, পানি বিপৎসীমার উপর দিয়েই বইছে। এভাবে পানি বাড়তে থাকলে বেনিয়াগ্রাম সহ একাধিক এলাকার ঘরবাড়ি প্লাবিত ও জলমগ্ন হতে পারে। ফারাক্কাবাসী হিসেবে আমরা আতঙ্কে আছি, তবে গঙ্গাপাড়ের বাসিন্দাদের ভয় সবচেয়ে বেশি। প্রশাসনকে এবার আগের চেয়ে অনেক বেশি সতর্ক ও সক্রিয় থাকতে দেখছি।

অন্যদিকে, ২০১৯ সালের গঙ্গা ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে ফারাক্কার সরকারি খাস জমিতে আশ্রয় নেওয়া কার্তিক মণ্ডল নিজের দুর্ভোগ ও ভীতির কথা জানান। তিনি বলেন, আগে আমরা ফারাক্কার হোসেনপুরে থাকতাম। ২০১৯ সালে গঙ্গায় সব ভেসে যাওয়ার পর কিছু তুলতে পারিনি, শেষমেশ ভেঙেচুরে ফারাক্কার এই ফাঁকা জায়গায় এসে আশ্রয় নিয়েছি। পুরোনো সেই ভীতি এখনো কুরে কুরে খাচ্ছে।

কার্তিক আরও বলেন, বর্তমানে গঙ্গার জল বাড়ছে, অন্যদিকে সরকারি জায়গা থেকেও তুলে দেওয়ার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। জল আর একটু বাড়লেই মেলার মাঠ ও আশেপাশের রাস্তায় জল উঠে গ্রামগুলি ডুবে যেতে পারে।

এদিকে, পানির স্তর বেড়ে যাওয়ায় বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে তারানগর ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। মুর্শিদাবাদ জেলার লালগোলা ও রঘুনাথগঞ্জ থানা এলাকার সীমান্তবর্তী তারানগর ও রাধাকৃষ্ণপুর গ্রামে বিগত দুই বছর ধরে লাগাতার ভাঙনে বহু ঘরবাড়ি, জমি ও গাছপালা নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। পুনরায় ভাঙন শুরু হওয়ায় সীমান্ত লাগোয়া এই গ্রামগুলিতে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved bijoykantho© 2025