বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১২ অপরাহ্ন

সংবিধানে নামাজ কায়েম ও রাষ্ট্রীয়ভাবে জাকাত চালুর দাবি এমপি মুজিবুরের

সংবিধানে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ ঈমান ও আস্থা ফিরিয়ে আনা, নামাজ কায়েম এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে জাকাত ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এ দাবি জানান তিনি।

এ সময় সংসদ সদস্যদের আমল ও চরিত্র গঠনের গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি তিনি সংসদে নামাজের বিরতি যথাযথভাবে কাজে লাগানোর তাগিদ দেন।

তবে পরবর্তীতে স্পিকার বিষয়টি ব্যক্তিগত ধর্ম পালনের স্বাধীনতার অংশ উল্লেখ করে সংসদীয় বিধি ব্যাখ্যাসহ গুরুত্বপূর্ণ রুলিং প্রদান করেন।

সংবিধানে ঈমান ও আস্থার বিধানের প্রসঙ্গ টেনে সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান বলেন, সংবিধানে অতীতে আল্লাহর প্রতি ঈমান ও আস্থা সংক্রান্ত বিধান মূল উৎস হিসেবে ছিল, যা পরবর্তীতে বাতিল করা হয়েছে।

দেশের ৯০ শতাংশের বেশি মুসলমান আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে উল্লেখ করে তিনি সংসদে আসর ও মাগরিবের নামাজের বিরতির কথা মনে করিয়ে দেন।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ক্ষমতার দায়িত্ব পেলে মূল কাজ হলো সালাত কায়েম ও জাকাত ব্যবস্থার মাধ্যমে সমাজ থেকে ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও বেকারত্ব দূর করা।

রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নামাজ ও জাকাত চালুর তাগিদ দিয়ে স্পিকার ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে আহ্বান জানিয়ে মুজিবুর রহমান বলেন, প্রশাসনিক উদ্যোগে নামাজ কায়েম ও জাকাত চালু হলে নাগরিকদের চরিত্র গঠনের পাশাপাশি পরকালের জবাবদিহির পথ সুগম হবে।

সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমানের বক্তব্যের জবাবে স্পিকার বলেন, ধর্ম পালনের বিষয়টি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও বিশ্বাসের ওপর নির্ভরশীল।

ইসলাম মানবতার ধর্ম উল্লেখ করে স্পিকার জানান, সঠিক উপায়ে ধর্ম পালন করলে বেহেশত পাওয়া যাবে আর অবহেলা করলে জাহান্নামে যেতে হবে এটিই সুনির্দিষ্ট বিধান।

স্পিকার স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সংসদীয় কোনো নোটিশ জারি করে কাউকে জোরপূর্বক ধর্ম পালনে বাধ্য করা যায় না। তবে বক্তব্যে প্রকাশিত অনুভূতিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে সবাই যেন আল্লাহর বিধান মেনে চলেন সেই আশা করি।

এদিকে নামাজ নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান ময়মনসিংহ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ফখরুদ্দিন আহমেদ।

পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এমপিদের মসজিদে যাওয়া না-যাওয়া সম্পর্কিত মুজিবুর রহমানের মন্তব্যের বিরোধিতা করে বলেন, কেবল নির্দিষ্ট জায়গা নয়, মসজিদের বাইরেও অনেকে নিয়মিত নামাজ আদায় করেন।

তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পিকার তাৎক্ষণিকভাবে হস্তক্ষেপ করেন এবং বিষয়টিকে নতুন বিতর্কে রূপ না দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে অধিবেশনের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখেন।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved bijoykantho© 2025