শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৫৩ অপরাহ্ন
‘নাগরিকদের যখন নিজেদের হাতে ঝাঁড়ু নিতে হয়, তখন বুঝতে হবে প্রশাসন ব্যর্থ’—এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের আমির ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদপ্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরম খাঁ হলে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। সকাল সাড়ে ১০টায় অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে চলমান ‘ক্লিন ঢাকা’ কর্মসূচির সর্বশেষ তথ্য এবং দেশের ও ঢাকার সামগ্রিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন তিনি। অবহিতকরণ ও চলমান পরিস্থিতি নিয়ে
মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের কেন শহরের পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নামতে হলো? এটা কি সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব নয়? নাগরিকদের যখন নিজেদের হাতে ঝাঁড়ু নিতে হয়, তখন বুঝতে হবে প্রশাসন ব্যর্থ।’
তিনি বলেন, প্রতিবছর একই সমস্যা বারবার ফিরে আসছে। অনেক কিছু কাগজে-কলমে হলেও বাস্তবে মাঠপর্যায়ে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। এতে নাগরিক সেবা ও প্রশাসনিক জবাবদিহির কাঙ্ক্ষিত শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে।
তিনি জানান, ২৫ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ‘ক্লিন ঢাকা’ কর্মসূচির আওতায় ঢাকা উত্তরের বিভিন্ন এলাকায় স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে রাস্তার পাশ, ড্রেনের মুখ ও খালের ধারে জমে থাকা বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে তিন ধরনের বর্জ্য আলাদাভাবে রাখার জন্য বিন স্থাপন করা হয়েছে।
সংগৃহীত বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে বিশ্ব সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে কলম ও খাতা তৈরি করে ঢাকার বিভিন্ন স্কুলে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
সেলিম উদ্দিন বলেন, পরিচ্ছন্নতা শুধু ময়লা অপসারণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করা এবং এর মাধ্যমে সামাজিক ও শিক্ষামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করাও আমাদের কর্মসূচির অংশ।
এর আগে, গতকাল বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) প্রকাশিত এক খোলা চিঠিতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কাছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বাজেট, ওয়ার্ডভিত্তিক বর্জ্য অপসারণের পারফরম্যান্স, অভিযোগ নিষ্পত্তির হার এবং প্রতিবছর একই সংকট ফিরে আসার কারণসহ পাঁচটি বিষয়ে সুনির্দিষ্ট জবাব দাবি করেন তিনি।
প্রেস ব্রিফিংয়ে সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, দ্রুত সিটি করপোরেশন নির্বাচন দিতে হবে—এটাই আমাদের পরিষ্কার দাবি। সবার আগে সিটি নির্বাচন চাই।
নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, মাঝাভাঙা নির্বাচন কমিশন আমরা চাই না। কারও পা-চাটা ব্যক্তি হবেন না। চাটাচাটি বাদ দিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ান।
সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কোনো ধরনের ব্যর্থতা বা কারচুপির চেষ্টা করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। স্থানীয় নির্বাচনেও সরাসরি মিডিয়া কাভারেজের মাধ্যমে নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার দাবি জানান সেলিম উদ্দিন।
ঢাকার ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা যদি ঢাকা সিটির দায়িত্ব পাই তাহলে সরকার পুরো বিশ্বে তা নিয়ে গর্ব করবে। কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঢাকা শহরে কোনো বেকার যুবক থাকবে না।
দেশের উন্নয়ন প্রসঙ্গে সেলিম উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের মানুষ উন্নয়ন দেখতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীকে পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব দিয়ে দেখুক। দায়িত্ব পেলে এমন উন্নয়ন করা হবে, যাতে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে কথা বলতে পারেন।
তিনি বলেন, এরই মধ্যে জাতীয় সংসদের বিরোধীদল ছায়া সরকার গঠন করেছে। একইভাবে আমরা ‘ছায়া সিটি করপোরেশন প্রশাসন’ গঠন করবো। তবে সেটা কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে।
প্রেস ব্রিফিংয়ের শেষ পর্যায়ে ঢাকাবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু দেখার জন্য হলেও জামায়াতকে পাঁচ বছর সিটির দায়িত্ব দিন। সরকার দেশ চালাক, আমরা ঢাকা সিটিকে উন্নত ও সমৃদ্ধ নগরী হিসেবে গড়ে তুলি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক মুহাম্মদ আতাউর রহমান সরকার।