শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০১:১৭ পূর্বাহ্ন
জিপিএ-৫ পাওয়াকে জীবনের চূড়ান্ত অর্জন মনে না করে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) জিএস এবং ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ। তিনি বলেছেন, জিপিএ-৫ পাওয়াকে জীবনের আলটিমেট অর্জন মনে করবেন না। সামনে আরও কঠিন যাত্রা আছে। এখন বিনয়ী হয়ে এক পয়েন্টে চেষ্টা করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল ৯টায় চট্টগ্রামের আনোয়ারায় এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উপজেলা ছাত্রশিবিরের আয়োজনে মমতাজ কনভেনশন হলে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এস এম ফরহাদ বলেন, এসএসসির ফলাফল সফলতার শেষ ধাপ নয় বরং উচ্চশিক্ষা ও ভবিষ্যৎ গড়ার বড় প্রস্তুতির শুরু। যারা জিপিএ-৫ পেয়েছে, তাদের সবাই ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত সুযোগ পাবে এমন নিশ্চয়তা নেই। আবার জিপিএ-৫ না পাওয়া শিক্ষার্থীরাও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ভালো অবস্থান তৈরি করতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভর্তি প্রতিযোগিতার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন সীমিত। তাই এসএসসির ফলাফলকে চূড়ান্ত সাফল্য মনে না করে পরবর্তী ধাপের প্রস্তুতিতে মনোযোগী হতে হবে।
তিনি বলেন, এসএসসির পরের দুই বছর শিক্ষার্থীদের জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ইন্টারমিডিয়েটে ভালো ফলাফল অর্জন করা।
শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অপ্রয়োজনীয় কাজে সময় নষ্ট না করার পরামর্শ দিয়ে ফরহাদ বলেন, লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনে অনেক বিষয় থেকে নিজেকে দূরে রাখতে হবে। পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখতে ‘ডিপ ফোকাস’-এর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
পরিকল্পনা ছাড়া শুধু বই খুলে পড়লে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, কখন কী পড়তে হবে এবং কোন অধ্যায় শেষ করতে হবে, তা আগে থেকেই নির্ধারণ করে পড়তে হবে। ২০, ৩০ কিংবা ৫০ মিনিটের ফোকাস সেশনে পড়লে মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয়।
পড়ার সময় অন্য কোনো চিন্তা মাথায় এলে সঙ্গে সঙ্গে সেই কাজে ব্যস্ত না হয়ে কাগজে লিখে রাখার পরামর্শ দেন তিনি। এতে মনোযোগ নষ্ট না করে নির্ধারিত সময়ের পড়াশোনা শেষ করা সম্ভব হবে বলে জানান ফরহাদ।
পড়ার পরিবেশ নিয়েও শিক্ষার্থীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সম্ভব হলে এমন জায়গায় পড়ার পরামর্শ দেন, যেখানে বাইরের কোনো বিষয় সহজে মনোযোগ নষ্ট করতে না পারে।
শিক্ষার্থীদের বড় স্বপ্ন দেখার আহ্বান জানিয়ে ডাকসু জিএস বলেন, থিঙ্ক গ্লোবালি, অ্যাক্ট লোকালি। নিজের অবস্থান থেকে কাজ করলেও চিন্তা ও লক্ষ্য বিশ্বমানের হতে হবে। পরিবারের আর্থিক সংকট, বাবা কৃষক বা রিকশাচালক হওয়া কিংবা জীবনের নানা প্রতিকূলতা সাফল্যের পথে বাধা নয়। এসব সংকটকে শক্তিতে পরিণত করতে হবে।
জীবনে একজন আদর্শ ব্যক্তির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান ফরহাদ। তিনি বলেন, সংকটের মধ্য দিয়েই মানুষ নিজেকে গড়ে তুলতে পারে।
অনুষ্ঠানে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। আনোয়ারা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি হাফেজ সাইফুদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম জেলা পশ্চিমের সভাপতি ফরমানুর রহমান জাহিন। সঞ্চালনা করেন উপজেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রিয়াদুল এরশাদ।
বিশেষ অতিথি ছিলেন আনোয়ারা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আবুল হাসান, ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম জেলা পশ্চিমের অফিস সম্পাদক সারতাজ আরেফিন ফাহিম। এছাড়া, আনোয়ারা উপজেলার তত্ত্বাবধায়ক শোয়াইবুল ইসলাম মোরশেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিবুল হাসানসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।