শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পড়ার ফজিলত মাওলানা কেফায়তুল্লাহ আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার পুরস্কার: আহমদ ইয়াসিন লাখাইয়ে হোমিওপ্যাথিক তরল পান করে দম্পতিসহ ৫ জনের মৃত্যু পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে ৪০ হাজারের বেশি গোয়েন্দা অভিযান, কয়লাখনি ধসে নিহত ৩৪ উগ্রবাদ ও মৌলবাদকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না: মির্জা ফখরুল ১ আগস্ট থেকে সব গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক: বিআরটিএ গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ-ভিডিও ধারণ করে চাঁদা আদায়, গ্রেফতার ৩ বগুড়ায় এনসিপির দুই কেন্দ্রীয় নেতাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করলো ছাত্রদল শীতলক্ষ্যায় গোসলে নেমে দুই শিশুর মৃত্যু নিষিদ্ধ ঘোষণার ৩ দিনের মাথায় ফ্যাসিস্ট সরকার পালাতে বাধ্য হয়:জামায়াত আমির

লাখাইয়ে হোমিওপ্যাথিক তরল পান করে দম্পতিসহ ৫ জনের মৃত্যু

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় নেশার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হোমিওপ্যাথিক অ্যালকোহলজাতীয় তরল পান করার পর দম্পতিসহ পাঁচজনের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। বুধবার ও বৃহস্পতিবার তাদের মৃত্যু হয়।

পুলিশ তিনজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করলেও বাকি দুজনের বিষয়ে থানায় কোনো তথ্য নেই। তবে স্থানীয়রা তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ঘটনার পর থেকে স্থানীয় এক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক আত্মগোপনে রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন, লাখাই উপজেলার মোড়াকড়ি গ্রামের মনোরঞ্জন দাস (৬০), সুজিত দাস (৩৫), ভাদিকাড়া গ্রামের নন্দলাল রবিদাস (৫২), তার স্ত্রী সুবি রবিদাস (৪০) এবং হবিগঞ্জ শহরের রঞ্জিত কুড়ি (৩৬)।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মনোরঞ্জন, সুজিত ও রঞ্জিত মোড়াকড়ি বাজারের ‘হ্যানিম্যান হোমিও হল’-এর মালিক সজল দাসের কাছ থেকে অ্যালকোহলজাতীয় তরল কিনে নিয়মিত নেশার উদ্দেশ্যে সেবন করতেন। গত মঙ্গলবার রাতে ওই তরল সেবনের পর তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন।

পরে মনোরঞ্জনকে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালে এবং সুজিতকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়। রঞ্জিত মারা যান ঢাকায় নেওয়ার পথে।

মোড়াকড়ি বাজারের জয় বাবা লোকনাথ মাছের আড়তের মালিক প্রদীপ দাস বলেন, নিহতরা নিয়মিত হোমিওপ্যাথিক দোকান থেকে অ্যালকোহলজাতীয় তরল কিনে নেশা করতেন। ওই তরল সেবনের কারণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয়দের ধারণা।

একইভাবে নন্দলাল রবিদাস ও তার স্ত্রী সুবি রবিদাস স্থানীয় বাজারের একটি দোকান থেকে অ্যালকোহলজাতীয় তরল কিনে সেবনের পর বাড়িতেই মারা যান বলে দাবি করেছেন বামৈ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য কেএম জিয়া। পরে তাদের মরদেহ দাহ করা হয়।

হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক দেবাশীষ দাস বলেন, কীভাবে মৃত্যু হয়েছে, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া বলা সম্ভব নয়। তবে ঘটনাপ্রবাহ সত্য হলে নেশার উদ্দেশ্যে সেবন করা কোনো অ্যালকোহলজাতীয় পদার্থের বিষক্রিয়ায় এমন ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এটি কেবল একটি সম্ভাবনা। নিশ্চিত হতে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষার বিকল্প নেই।

লাখাই থানার ওসি শরীফ আহমেদ বলেন, আমরা তিনজনের মৃত্যুর তথ্য পেয়েছি। একজনকে সমাহিত করার সময় খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। আরও দুজনকে পুলিশকে না জানিয়েই দাহ করা হয়েছে। অন্য দুজনের বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক সজল দাসের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved bijoykantho© 2025