শুক্রবার, ৩১ Jul ২০২৬, ০৪:১৯ পূর্বাহ্ন
ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন বলেছেন, করদাতাদের যেন ট্যাক্স দিতে গিয়ে এক টাকাও ঘুস দিতে না হয়, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব জামায়াতের হাতে এলে নগর ব্যবস্থাপনাকে নতুনভাবে সাজানো হবে। জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
জামায়াতের এই সংসদ সদস্য বলেন, গ্যাস সংকটের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো সুখবর নেই। তবে এ সমস্যা সমাধানে সরকারের একটি মেগা পরিকল্পনা রয়েছে, যা বাস্তবায়ন হতে তিন থেকে চার বছর সময় লাগতে পারে।
সাইফুল আলম খান মিলন আরও বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা যোগ্যতার অভাব নয়, বরং দুর্নীতি। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, জামায়াতের স্বাস্থ্যসেবামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে বহু সুবিধাবঞ্চিত মানুষ চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন।
বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর বিজয় সরণির একটি রেস্তোরাঁয় ‘নগর উন্নয়ন ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা ও সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দলটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অনুষ্ঠানে গ্যাস সংকট, দুর্নীতি, জলাবদ্ধতা, নগর নিরাপত্তা এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতারা গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনে জামায়াত মনোনীত মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনগণের ভোট কোনোভাবেই হাইজ্যাক হতে দেওয়া হবে না। যদি ভোট কারচুপির চেষ্টা করা হয়, তাহলে ক্ষমতাসীনদের কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
সেলিম উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিনেও রাজধানীর মৌলিক সমস্যাগুলোর সমাধান হয়নি। চাঁদাবাজি, মাদকাসক্তি, পানি ও গ্যাস সংকট, যানজট এবং ফুটপাত দখল নাগরিক জীবনে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি করছে। এসব সমস্যার সমাধানে সঠিক পরিকল্পনা ও সৎ নেতৃত্বের বিকল্প নেই।
তিনি জানান, সড়কে আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে যানজট অনেকাংশে কমানো সম্ভব। বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি বাস্তবসম্মত নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে, যা তিনি ভবিষ্যতে বাস্তবায়ন করতে চান।
জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্ষা শুরুর আগেই ড্রেনেজ ব্যবস্থা পরিষ্কার, নিয়মিত খাল খনন এবং পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করলে রাজধানীর জলাবদ্ধতা অনেকটাই কমানো সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যেন মানুষ এই শহরকে নিয়ে গর্ব করতে পারে। সন্তানের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলাই তাদের অঙ্গীকার।