বুধবার, ১৭ Jun ২০২৬, ০১:৪০ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
চট্টগ্রামের মীরসরাই ও সীতাকুণ্ডে অজ্ঞাত দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার ১৯ বছর পর মুখোমুখি আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া চুয়াডাঙ্গায় বাড়ির তালা ভেঙে মোটরসাইকেলসহ বিপুল মালামাল চুরি হবিগঞ্জে রাস্তা নিয়ে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, নিহত ২ হেলিকপ্টার দিয়ে আকাশ থেকে বীজ ছিটিয়ে লাগানো হবে গাছ কামরাঙ্গীরচরে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে যুবক খুন, গ্রেফতার ২ আওয়ামী লীগ ও গণতন্ত্র কখনো একসঙ্গে যায়নি: ফখরুল সংসদে না হলে রাজপথে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হবেই: বিরোধীদলীয় নেতা ঈদুল আজহা গেলো, এখনো মে মাসের বেতন পাননি মাদরাসা শিক্ষকরা: সংসদে জামায়াত এমপি বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা নয়, বরং জনকল্যাণে বিরোধিতা করে বিরোধীদল: জামায়াত আমির

সংসদে না হলে রাজপথে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হবেই: বিরোধীদলীয় নেতা

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের রায় সংসদে নিষ্পত্তি না হলে তা রাজপথে আদায় করা হবে বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেছেন, জনগণের দাবি থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ নেই। সংসদে সমাধান হলে ভালো, আর না হলে আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে। উই আর কমিটেড। আমরা আমাদের কমিটমেন্ট ভায়োলেট করতে পারি না। জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবো না। এই দাবি আজ হোক, কাল হোক আদায় হবে ইনশাল্লাহ।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) জাতীয় সংসদের এলডি হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

সংবিধান সংশোধনে সরকারি দলের প্রস্তাবিত কমিটিতে বিরোধীদল প্রতিনিধি দেবে না জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের দাবি ছিল সংবিধান সংস্কার। এই জন্যই রেফারেন্ডাম (গণভোট) হয়েছে। আমরা বলেছি, ৭০ শতাংশ (৭২ শতাংশ হবে) মানুষ যেখানে ভোট দিয়েছে, আমরা সংসদের ভেতরে এসে এটা বদলাতে চাই না। আমরা জনগণের পক্ষে, জনগণের রায়ের পক্ষে। অতএব সংশোধন নয়, সংস্কারের জন্য কমিটি করলে আমরা দেখবো বিবেচনা করবো।

তিনি বলেন, আমরা পরিষ্কার বলে দিয়েছি, এটা নতুন করে আর বলার কিছু নেই যে সংবিধান সংশোধনের জন্য কমিটির দরকার নেই। এটা তো একটা রুটিনওয়ার্ক। এটা বিল আকারে আসবে ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে, আমরা আলোচনায় অংশ নেবো। পাস হলে পাস হবে, রিজেক্ট হলে রিজেক্ট হবে, এটার জন্য কোনো কমিটি লাগে না। কমিটির প্রয়োজন সংবিধান সংস্কারের জন্য। সংস্কারের জন্য যদি তারা কোনো প্রস্তাব দেন, তখন আমরা বিবেচনা করবো।

সংসদে বিরোধীদলের কার্যক্রম তুলে ধরে শফিকুর রহমান বলেন, সংসদে আমরা কিছু নোটিশ দিয়েছি। আমাদের প্রথম নোটিশ ছিল গণভোট নিয়ে অধিবেশন আহ্বান করার জন্য। সেটা নিয়ে সংসদের ভেতরে আমরা আমাদের যুক্তিপূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরেছি।

তিনি বলেন, ব্যাংক ইস্যুতে আমরা কথা বলেছি। এটাও জনস্বার্থে বলেছি। আমাদের ভঙ্গুর অর্থনীতির দুই অঙ্গই বিধ্বস্ত। স্টক মার্কেট মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। ব্যাংকের যা হাড্ডি ছিল, এটাও এখন গুঁড়া হওয়ার উপক্রম। এ নিয়ে আমরা সংসদের ভেতরে জনগণের পক্ষে কথা বলেছি। প্রবাসীদের সমস্যা নিয়ে নোটিশ দিয়েছি। সেটা নিয়ে সরকার ও বিরোধীদল সবাই খুব গঠনমূলক আলোচনা করেছে। কিন্তু এটা যদি আলোচনায় সীমাবদ্ধ হয়ে যায়, যদি এক্সিকিউশনে না যায় তাহলে এ দিয়ে প্রবাসীদের কোনো সমস্যার সমাধান হবে না। আমরা সুনির্দিষ্টভাবে সংসদীয় টাস্কফোর্স গঠন করার প্রস্তাব দিয়েছি। এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে তার কোনো প্রতিক্রিয়া বা সিদ্ধান্ত আমরা জানতে পারিনি।

আরেকটা নোটিশ দিয়েছিলাম, সীমান্তে পুশ-ইন নিয়ে। আমার নোটিশদাতাকে ডেকে নিয়ে বলা হয়েছে যে, এটা সেনসিটিভ ইস্যু, আপনি একটু উইথড্র করেন। ওই এমপি বলছেন, আমি উইথড্র করবো না। সেনসিটিভ ইস্যু বলেই তো আমি আলোচনা করতে চাচ্ছি। দেশের স্বার্থে, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের স্বার্থে। একবার নোটিশ দেওয়া হলো ১৪ তারিখ, এটা আলোচনায় আসবে। নোটিশ আমরা পেয়ে গেলাম, তারপরে আবার এটা বাদ দিয়ে আবার ওই দিনের কার্যসূচি ঠিক করা হয়।

অতীতের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে জনগণের স্বার্থে বিরোধীদলের ভূমিকা পালন করবেন জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের ডিসিশন সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমরা বগলদাবা বিরোধীদল হবো না এবং আমরা সংসদের ভেতরে এমন কোনো আচরণ করবো না, যাতে জনস্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়। জনগণ আমাদের এখানে (সংসদে) পাঠিয়েছে জনগণের কথা বলার জন্য।

তিনি বলেন, কোনো ইস্যুতে আমাদের যদি যৌক্তিক বিষয়টা বিবেচনায় না নিয়ে নাকচ করে দেওয়া হয় বা সুযোগ না পাই তখন আমরা ওয়াক আউট করবো। কিন্তু সেটা লং টার্মের জন্য নয়। আমি আবারও বলছি, আমাদের খুব গরম বিরোধীদল ভাববেন না এবং আমাদের একটা যৌক্তিক বিরোধীদল হিসেবে দেশের স্বার্থে কাজ করার জন্য আপনারা সহযোগিতা করবেন।

সংসদ অধিবেশন পরিচালনায় প্রতি মিনিটের জন্য এক লাখ ৭৬ হাজার টাকা খরচ হয় জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমরা স্পিকারকে অনুরোধ জানিয়েছিলাম যে, ব্যক্তিগত চরিত্রহনন, দলের চরিত্রহনন এবং কারও মনোরঞ্জন বা প্রশংসা করা- এগুলো যেন বাদ দেওয়া হয়। এখানে কারও প্রশংসা করতে আমরা আসিনি। আমরা এসেছি জনগণের পক্ষে কথা বলতে।

মতবিনিময় সভায় বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, বিরোধীদলীয় হুইপ রফিকুল ইসলাম খান ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রমুখ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved bijoykantho© 2025