বুধবার, ১০ Jun ২০২৬, ০১:১৯ পূর্বাহ্ন
পতিত ফ্যাসিবাদী আমলের দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের ক্ষত সারিয়ে একটি ইনসাফভিত্তিক ও জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে বিরোধী দল হিসেবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার বিকল্প বা ‘ছায়া বাজেট’ প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
প্রস্তাবিত এই বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়ার পাশাপাশি ইমাম মুয়াজ্জিন ভাতা, শিক্ষায় করছাড় এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী ব্যাপকভাবে বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) রাজধানীর আল ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের সঞ্চালনায় বাজেট প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন দলের নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি, অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার (সাবেক এমপি), সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম, ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ (সাবেক এমপি), মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, মাওলানা আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য আবদুর রব, অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, মোবারক হোসাইন, নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, ড. মো. রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জাহিদুর রহমান।
১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান এমপি, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ড. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এবি পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট একেএম আনোয়ারুল ইসলাম চান ও সেক্রেটারি জেনারেল নিজামুল হক নাঈম, নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির আবদুল মাজেদ আতহারী, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির আহমাদ আলী কাসেমী, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল মিয়াজি প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশবাসী, আমরা সকলে ইতিহাসের সাক্ষী। আজকের বাংলাদেশের সূচনা মূলত ১৯৪৭ সালে। ৪৭ সালে পাকিস্তান ও ভারত নামের দুটি রাষ্ট্রের উৎপত্তি হয়। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান এবং আরো তিনটি প্রদেশ নিয়ে পাকিস্তান গঠিত হয়। পূর্ব পাকিস্তান এবং পশ্চিম পাকিস্তানের মাঝখানে ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকা রয়েছে। ১৯৪৭ সালে যে ভূখণ্ডটি অখণ্ড ভারত থেকে এবং ব্রিটিশ শাসনের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছিল। সেই সময় পূর্ব পাকিস্তানের যে সীমানা ছিল, তা-ই আজকে বাংলাদেশের সীমানা। মহান মুক্তিযুদ্ধে এবং বায়ান্নতে যারা জীবন দিয়েছেন, লড়েছেন, ত্যাগ স্বীকার করেছেন তাদের শহীদ হিসেবে কবুলের জন্য দোয়া করেন এবং বেঁচে থাকা আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, চব্বিশের জুলাইতে দ্বিতীয়বার স্বাধীনতার আগে নেতারা জনগণকে ওয়াদা দিয়েছিলেন- এমন একটি দেশ আমরা জনগণকে উপহার দেব, যেখানে সুবিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। কোনো বৈষম্য থাকবে না এবং অর্থনৈতিক সংকট দূর হবে। বেকারত্ব থাকবে না। আমরা সমস্ত শিশুদের সুশিক্ষা নিশ্চিত করব। কিন্তু না, কোনো ওয়াদা তারা পূরণ করেননি। বরং ক্ষমতায় বসে জনগণের অভিপ্রায়ের প্রতি সম্মান দেখাতে তৎকালীন সরকার দারুণভাবে ব্যর্থ হয়েছিল। যার কারণে দুঃখজনকভাবে তাদেরকে বিদায় নিতে হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ক্রমাগত পথ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে আজকের বাংলাদেশ এখানে এসে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪ সালে এ দেশের মানুষ একটি পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা বুকে নিয়ে বুক পেতে লড়াই করেছিল। লড়াই কোনো দলের পক্ষ থেকে হয়নি। এই লড়াই হয়েছে জনগণের পক্ষ থেকে। সমগ্র দেশবাসী, ছাত্র, জনতা, শ্রমিক-কৃষক- সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ, প্রতিরোধ এবং লড়াইয়ের মুখে ফ্যাসিস্ট সরকার অপমানজনকভাবে বিদায় নিতে বাধ্য হয়েছে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আর্থিক, রাজনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক, সাংবিধানিক সকল জায়গায় আজকের নির্লজ্জ রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ স্পষ্ট। সেন্ট্রাল ব্যাংক থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যাংক, বীমা কর্পোরেশন সবগুলোয় সেই থাবা বিস্তৃত হচ্ছে এবং সমাজের অপরাধী লোকদের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যাদের বিরুদ্ধে অপরাধ বিভিন্নভাবে প্রমাণিত। এভাবে যদি দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার উপর রাজনৈতিক অন্যায্য হস্তক্ষেপ অব্যাহত থাকে জাতির গন্তব্য কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? প্রশ্ন রাখেন জামায়াত আমির।
জামায়াতের জনবান্ধব বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা মনে করি আগামীর বাজেট কেমন হওয়া উচিত? সেই ব্যাপারে জনগণের অভিপ্রায়কে অনুধাবন করে জনগণের সামনে আমাদের চিন্তাগুলা পেশ করা উচিত।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এটি একটি বাজেট নয়, এটা বাজেটের পূর্ব ধারণা। এখান থেকে যদি সরকার ভালো কিছু পিকআপ করেন, জনগণ উপকৃত হবে এটা কোনো দলের বিষয় নয়। আমরা এই বাজেট কোনো দলের জন্য দিচ্ছি না। এই বাজেট ১৮ বা ২০ কোটি মানুষের জন্য হতে পারে। আমরা যে প্রস্তাবনাটা জনগণের সামনে পেশ করব- এটার শর্ত আছে। শর্তগুলো হলো-এই বাজেট বাস্তবায়নের জন্য সততা, স্বচ্ছতা লাগবে, জবাবদিহিতা লাগবে। সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতার যদি নিশ্চিত করা যায়। আমরা মনে করি যে বাজেট প্রস্তাবনা আমরা করব। সেটা অবশ্যই অর্জনযোগ্য। এ কিন্তু যদি সততা, স্বচ্ছতা এবং অ্যাকাউন্টেবিলিটি না থাকে, তাহলে বাজেট যে সরকারই দিক না কেন, ওই বাজেট কার্যকর হবে না।
তিনি বলেন, আমাদের প্রস্তাবনায় আরো কিছু বিষয় থাকবে। সেটা এখানে এবং সংসদে। আমাদের অর্থবছর হচ্ছে জুলাই টু জুন। জুন মাস, বর্ষা খড়া, দুর্যোগ, সাইক্লোন- এগুলোতে সাধারণত আমাদের দেশ আক্রান্ত হয়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা লক্ষ্য করি, এডিপির একটা বিশাল অংশ শেষের দুই মাসের তাড়াহুড়ো করে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়। একটি বাস্তবায়ন নয়, এটি হচ্ছে গণ লুটপাট। এর সুফল জনগণ পায় না। কিছু অসৎ সুবিধাভোগীর পকেটে সুফল চলে যায়। আমাদের অর্থবছরটি ক্যালেন্ডার বছরের সাথে মিলিয়ে করা হোক আমরা সংসদে সেই প্রস্তাব দেব। তাহলে বর্ষার পানিতে আমাদের টাকাগুলো ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যাবে না। এই টাকাগুলোর খবর পাওয়া যাবে, ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, নিয়ম রয়েছে বাজেট পুরো হওয়ার মিনিমাম তিন মাস আগে সম্পূরক বাজেট সংসদে পেশ করতে হবে। কিন্তু আমরা সম্পূরক বাজেট পাবই শেষ মাসে। বৈধ অবৈধ,ন্যায্য অন্যায্য সব খরচ হয়ে গেল। কালো সাদা হয়ে একাকার হয়ে গেল। তারপরে সম্পূরক বাজেট সংসদে আসল, তাতে জনগণের লাভ কি?
জামায়াত আমির বলেন, আমাদের ট্যাক্স কালেকশনের যে পদ্ধতি রয়েছে, সেটা দারুণ ত্রুটিপূর্ণ। যারা ট্যাক্স দেন তারা তিন ধরনের ট্যাক্স দেন। একটা ট্যাক্স ট্রেজারিতে (সরকারি কোষাগারে) জমা হয়, একটা কিছু ব্যক্তির পকেটে যায় (ট্যাক্স আদায়কারীদের একটি অংশ)। আরেকটা চাঁদাবাজদের পকেট যায়। ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ। যার কারণে ট্রেজারির ট্যাক্সটা তার নম্বর ভলিউমের দিক থেকে ছোট হয়ে আসে।
তিনি বলেন, যদি সততা এবং স্বচ্ছতা মেনে ট্রাক্স কালেকশন করা যায়, অটোমেটিক্যালি ব্যবসায়ীরা বিপুল উৎসাহে আরো বেশি ট্যাক্স দিবেন জনগণ ও রাষ্ট্রকে। এতে রাষ্ট্র এবং জনগণ উপকৃত হবে। তাছাড়া ট্যাক্স বেস সম্প্রসারণ করার প্রয়োজনকে আমরা অস্বীকার করি না। আমরা প্রিয় দেশবাসীর কাছে জনবান্ধব একটি বাজেট প্রস্তাবনা আমাদের বিবেচনায় পেশ করতে যাচ্ছি। আসল বিচারক হবেন জনগণ। বাজেট পেশ করার পরে আমরা সচেতন জনগণের কাছ থেকে ফিডব্যাক আশা করব। আমাদের কোনো প্রস্তাবনা তাদের কাছে ভালো লাগলে সেটা বলার দরকার নেই। কিন্তু কোনো প্রস্তাবনা যদি জনস্বার্থের বিপক্ষে হয়, তারা যেন আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন, আমাদের সমালোচনা করে সহযোগিতা করেন।
জামায়াত আমির বলেন, আমরা দৃষ্টি আকর্ষণ এবং সমালোচনাকে অভিনন্দন জানাব। এখান থেকে শিখব আমাদের জ্ঞানের ঘাটতি পূরণ করব। জনগণের জন্য আগামীতে আরো সুন্দর এবং আরো পরিপূর্ণ চিন্তা করার প্রয়াস পাব।
বাজেটের আকার ও রূপরেখা নিয়ে সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন তার উপস্থাপনায় জানান, প্রস্তাবিত এই ছায়া বাজেটের মোট আকার ধরা হয়েছে ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা। এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৬৫ হাজার ৯২৬ টাকা। বাজেটে সামগ্রিক ঘাটতি ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩২৯ কোটি টাকা, যা জিডিপির ২.৪৩ শতাংশ।
বিকল্প এই বাজেটের মূল দর্শন হিসেবে তিনি সাম্য, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদায় অভিসিক্ত আধুনিক ইসলামভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা তুলে ধরেন।
বিগত স্বৈরাচারী শাসনামলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে ব্যাংক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয়েছে। ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দেশ থেকে ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এই পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনাই হবে বাজেট ঘাটতি মেটানোর অন্যতম উপায়।
সাইফুল আলম বলেন, জামায়েত ইসলামীর বাজেট প্রস্তাবনায় এনআইডি হবে টিন। করজাল সম্প্রসারণের জন্য আলাদা টিন নম্বরের পরিবর্তে জাতীয় পরিচয়পত্রকেই ‘বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর’ বা ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। স্মার্ট সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর প্রবর্তনের কথাও বলা হয়।
করমুক্ত আয়সীমা ও করছাড় বিষয়ে তিনি বলেন, ব্যক্তিখাতে করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে ৪ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি করদাতাদের সন্তানদের পড়াশোনার খরচ বাবদ বছরে ৫০ হাজার টাকা এবং পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের জন্য মাথাপিছু আরও ৫০ হাজার টাকা কর রেয়াতের প্রস্তাব করা হয়েছে।
সাইফুল আলম বলেন, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা এবং মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির ভাতা ৬৫০- ৯০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে প্রাথমিকভাবে ১ হাজার টাকা এবং পর্যায়ক্রমে ৩ হাজার টাকায় উন্নীত করার কথা বলা হয়েছে।
ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য ভাতা বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের সকল মসজিদের ইমামদের মাসিক ৭ হাজার ৫০০ টাকা, মুয়াজ্জিনদের ৫ হাজার টাকা এবং খাদেমদের ৩ হাজার টাকা করে সম্মানী ভাতা দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ১০০ শতাংশ এবং ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের জন্য ৮০ শতাংশ বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে।
বিনামূল্যে মাতৃত্বকালীন চিকিৎসাসেবার বিষয়ে তিনি বলেন, সন্তান সম্ভাবনার শুরু থেকে সকল মায়ের জন্য মাতৃকালীন দুই বছর বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
শিক্ষা খাতে জোর ও মাদরাসা সরকারিকরণ বিষয়ে তিনি বলেন, শিক্ষাকে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেয়ার প্রস্তাব করা হয়। সেই সঙ্গে প্রতিটি জেলায় অন্তত একটি করে আলিয়া মাদরাসাকে সরকারিকরণের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট শাসন আমলে কেবল জিডিপির সংখ্যাগত উন্নয়নের ওপর জোর দেয়া হয়েছে, কিন্তু জনগণের প্রকৃত জীবনমানের কোনো উন্নয়ন হয়নি। ২৪ এর ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা নতুন এক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি।
তিনি আরো বলেন, আমাদের বাজেটের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটি প্রবৃদ্ধিকেন্দ্রিক নয়, বরং সুশাসন, জবাবদিহিতা, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন এবং উৎপাদনশীলতা নির্ভর। আমরা অর্থনীতিতে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ও অদক্ষতা দূর করে স্বচ্ছতা ও ন্যায়ভিত্তিক সম্পদ বণ্টনের মাধ্যমে একটি প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতির কাঠামো দাঁড় করাতে চাই।
অনুষ্ঠানে জামায়াতের এই নেতা জানান, জাতীয় সংসদে বাজেট পাসের আগে জনগণের কাছে নিজেদের কল্যাণমূলক অর্থনৈতিক ভাবনা তুলে ধরতেই তাদের এই বিকল্প বাজেট প্রস্তাবনা।