বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ০২:৩৭ অপরাহ্ন
সমাবেশে উপস্থিত লাখো জনতার উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আবু সাঈদরা বুক পেতে না দাঁড়ালে, এ জাতির মুক্তির জন্য যদি বুকে গুলি লুফে না নিতেন, তাহলে হয়তো আজকের এই বাংলাদেশটা আমরা দেখতাম না।
তিনি আরো বলেন, ‘কোনো এমপি বা মন্ত্রী যদি তাঁর নির্দিষ্ট কোনো কাজের জন্য বরাদ্দ পেয়ে থাকেন, কাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের ১৮ কোটি মানুষের কাছে তাঁরা তাঁর প্রতিবেদন তুলে ধরতে বাধ্য হবেন। চাঁদা আমরা নিব না, দুর্নীতি আমরা করব না। চাঁদা আমরা নিতে দেব না, দুর্নীতি আমরা সহ্য করব না। ’
জাতির প্রতিটি স্তরের মানুষের পক্ষ থেকে কথা বলার দায়বদ্ধতা অনুভব করে তিনি বলেন, ‘আমি শিশুদের বন্ধু, যুবকদের ভাই, বয়স্কদের সহযোদ্ধা, বোনদের ভাই। তাদের মুক্তির জন্য দায়িত্ব নিয়ে আমি এখানে দাঁড়িয়েছি। আমি বলতে চাই, বাংলাদেশ নির্দিষ্ট কোনো শ্রেণির নয়, আমাদের লড়াই সব মানুষের মুক্তির জন্য। রাস্তার পরিচ্ছন্নতাকর্মী, চা-বাগানের শ্রমিক, রিকশাচালক, মাঠের কৃষক—আমি তাদের পক্ষেই কথা বলতে এসেছি। আমি অভিজাত শ্রেণির প্রতিনিধি হয়ে কথা বলতে আসিনি। ’
জামায়াত আমির বলেন, ‘আজীবন রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করেছি। জেল-জুলুমের পরোয়া করিনি। আফসোস, ২০২৪ সালে জাতিকে মুক্তি দিতে গিয়ে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, শহীদ হয়েছেন, আমি তাঁদের একজন হতে পারলাম না। আপনাদের কাছে দোয়া চাই, ইনসাফভিত্তিক একটি দেশ গড়ে তোলার জন্য আগামী দিনে যে লড়াই হবে, আমার আল্লাহ যেন সেই লড়াইয়ে আমাকে একজন শহীদ হিসেবে কবুল করেন। ’
তিনি বলেন, ‘২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে শুরু করে শাপলা গণহত্যা, সারা দেশব্যাপী গণহত্যা, পিলখানার গণহত্যা, ২০২৪-এর গণহত্যা যারা করেছে, তাদের সবার বিচার বাংলার মাটিতে নিশ্চিত করতে হবে। ’
নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহবান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এদের বিচারের দৃশ্যমান প্রক্রিয়া শুরু না হওয়া পর্যন্ত পুরনো ব্যবস্থাপত্রে বাংলাদেশ আর চলবে না। এত মানুষ এমনি এমনি জীবন দেননি। যদি সেই পুরনো পচা ব্যবস্থা টিকে থাকে, তাহলে তাঁরা কেন জীবন দিলেন? যাঁরা ওই ব্যবস্থায় বাংলাদেশকে আবার গড়তে চান, তাঁদের বলি, জুলাইয়ে যুদ্ধ করে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, শক্তি থাকলে তাঁদের জীবন ফেরত দিন। ’