বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২১ পূর্বাহ্ন

জামায়াতে যোগ দিলেন শতাধিক ব্যক্তি

রাজধানীর বাড্ডায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন শতাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বাড্ডা উত্তর থানা জামায়াত কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে শতাধিক বিশিষ্ট সুধীজন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী জামায়াতে যোগ দেন।

অনুষ্ঠানে সাবেক নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা, সাবেক এএসপি, সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, কওমি আলেম ও মাদরাসার মুহতামিম, খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী, বাড়িওয়ালা ও ব্যবসায়ীসহ শতাধিক ব্যক্তি সহযোগী ফরম পূরণ করে জামায়াতে যোগ দেন।

বাড্ডা উত্তর থানা জামায়াতের আমির ও ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মাওলানা মো. কুতুব উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তর সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম।

বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তর সহকারী সেক্রেটারি নাজিম উদ্দীন মোল্লা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাড্ডা উত্তর থানা জামায়াতের সেক্রেটারি ইকবাল হোসাইন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, ‘আমি এটিকে শুধু জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান বলতে চাই না। আপনারা নিজের বুকের মধ্যে গোটা ইসলামকে ধারণ করার জন্য এখানে এসেছেন। আপনারা একমাত্র আল্লাহর ভালোবাসা ও রাসুলে কারিম (সা.)-এর মহব্বতে এখানে এসেছেন।’

তিনি বলেন, ‘আল-কোরআনকে নিজের জীবনে ও সমাজে ধারণ করার মাধ্যমে আমরা ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন, সামাজিক জীবন এবং রাষ্ট্রীয় জীবনকে ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে চাই।’

জামায়াতে যোগদানের ক্ষেত্রে সততার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ও শহীদ আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। তারা সততার এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন।’

ইসলামের সৌন্দর্য, মানবিকতা ও ন্যায়বিচারের দৃষ্টান্ত তুলে ধরে রেজাউল করিম বলেন, ‘আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন সদিক ও আমিন। তার কাছে মানুষ সম্পদ ও আমানত গচ্ছিত রাখত। এমনকি তিনি মক্কা থেকে দেশান্তরিত হওয়ার সময়ও মানুষের আমানত ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইসলাম মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ করে না। সবার ওপরে মানুষ, সবকিছুর ওপরে মানবতা। অন্য ধর্মের মানুষের সম্পদ, ইজ্জত ও আব্রুর ওপর কেউ আঘাত করলে রাসুলুল্লাহ (সা.) তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।’

অন্য ধর্মের মানুষের অধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যেখানে ইসলাম কায়েম হলে সব ধর্মের লোক তাদের অধিকার পাবে। মন্দিরে, মসজিদে, গির্জায় প্রত্যেকে তার অধিকার নিয়ে ধর্মকর্ম পালন করবে। প্রত্যেকে তার মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে সেখানে বেঁচে থাকবে।’

তিনি বলেন, আমরা একটা ইনসাফের বাংলাদেশ চাই। নিজেদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে ইসলামের সৌন্দর্য, মহানুভবতা, উদারতা ও ভালোবাসা সমাজের মানুষের কাছে তুলে ধরা যায়।

নিজের অতীতের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন ড. রেজাউল করিম। তিনি বলেন, ‘একসময় আমাদের পরিচয় প্রকাশ করে কোথাও ওঠা যেত না। নাম বললেই অনেক জায়গা থেকে আমাদের বের করে দেওয়া হতো। জুলাই আন্দোলনের পরে আমার ছোট মেয়ে বলেছিল, এখন থেকে তাহলে বাবার নাম সবাইকে বলতে পারব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সবাই এই দুনিয়ায় কাঙাল। কে কত বড়, কত টাকার মালিক বা কত ক্ষমতাবান—এটি গুরুত্বপূর্ণ নয়। সৌভাগ্যবান তারাই, যারা দুনিয়ার নাজ-নিয়ামতের দিকে না ঝুঁকে পরকালের অনন্ত জীবনের সাফল্য খোঁজে।’

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপির সমালোচনা করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘বিএনপি গণভোটকে প্রত্যাখ্যান করে ৭০ শতাংশ মানুষকে অবজ্ঞা করেছে।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘মিরপুরে একটি হাসপাতাল গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় বিএনপির এমপি ও নেতাকর্মীরা জড়িত ছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ছয় মাসের সরকারকে নামাতে চাই না। আমরা দোয়া করি, আপনারা পাঁচ বছর থাকেন। কিন্তু কর্মকাণ্ড দেখে বলছি, আপনারা পাঁচ বছর টিকবেন না। গ্যাস নেই, বিদ্যুৎ নেই, সার নেই—এভাবে চলতে থাকলে একসময় জনগণ বলবে সরকারও নেই।’

তিনি বলেন, সরকার যদি এভাবে চলতে থাকে, লুটপাট চালাতে থাকে এবং অবিচার-অন্যায় পরিচালনা করতে থাকে, তাহলে মধ্যবর্তী সরকারের নির্বাচনের দাবি উঠবে।

নবাগতদের অভিনন্দন জানিয়ে ড. রেজাউল করিম বলেন, ‘আপনারা যে সৌভাগ্যের কাতারে শামিল হয়েছেন, আসুন আমরা নিজেদের গড়ে তুলি। আমরা সবাই মিলে সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চাই। আল্লাহ আমাদের সেই তৌফিক দান করুন।’

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved bijoykantho© 2025