বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৮ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :

যমুনার তীব্র ভাঙনে নদীগর্ভে ৪ শতাধিক ঘরবাড়ি

সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীর চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে তীব্র ভাঙন থামছেই না। ইতিমধ্যে শাহজাদপুর উপজেলার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানের ৪ শতাধিক ঘরবাড়ি ও বহু জায়গা-জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

ভাঙনের মুখ থেকে অনেকেই তাদের ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। এ ভাঙনে বহু পরিবার এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কয়েক সপ্তাহ ধরে যমুনার পানি ক্রমাগত কমতে থাকায় যমুনার তীরবর্তী শাহজাদপুর, চৌহালী, কাজিপুর, বেলকুচি ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে এ ভয়াবহ ভাঙন থামছেই না।

বিশেষ করে শাহজাদপুর উপজেলার চরাঞ্চলের কুরশি, গালা, জালালপুর, কৈজুরী, বারপাকিয়া ও ধীতপুর গ্রামের ৪ শতাধিক বসতবাড়ি ও জায়গা-জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তবে সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কুরশি, বারপাকিয়া ও ধীতপুর গ্রামে প্রায় শতাধিক পরিবারের জায়গা-জমি বিলীন হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের লোকজন এখন গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, যমুনা নদীর পানি কমতে থাকায় শাহজাদপুর উপজেলার চরাঞ্চলের সোনাতনী ইউনিয়নের ধীতপুর ও বারপাকিয়াসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে প্রচণ্ড ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এতে বহু পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। এসব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে ইতিমধ্যে চালসহ নগদ টাকা বিতরণ করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের এ বিতরণ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যে আবারও ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।

এদিকে, এ অঞ্চলে ভাঙন প্রতিরোধে অতি সম্প্রতি স্থানীয়রা মানববন্ধন ও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছিলেন। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে এ ভাঙন রোধের দাবি জানিয়ে স্মারকলিপিও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এ ভাঙন রোধে এখনও ব্যবস্থা নেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এ কারণে অব্যাহত ভাঙনে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।

এছাড়া ওই উপজেলার চরাঞ্চলের মোহনপুর, হাতকোড়াসহ বিভিন্ন স্থানে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। কাজিপুর ও চৌহালী উপজেলার চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানেও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, শাহজাদপুরের চরাঞ্চলে তীব্র ভাঙনের কথা শুনেছি। তবে এ ভাঙন রোধে এখনও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। অবশ্য এ ভাঙনের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। নির্দেশনা পাওয়া গেলে ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরিনা শারমিন বলেন, এ উপজেলার বিশেষ করে সোনাতনী ইউনিয়নের চরাঞ্চলে ভাঙন এখন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। কয়েকদিন ধরে এ চরের কয়েকটি গ্রামে ভাঙনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা মাঝেমধ্যেই পরিদর্শন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এ ভয়াবহ ভাঙনের বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে। তবে এ ভাঙন রোধে এখনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved bijoykantho© 2025