বৃহস্পতিবার, ১৬ Jul ২০২৬, ১০:৩২ অপরাহ্ন
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের দ্বিতীয় শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী শ্রদ্ধা, স্মরণ ও দোয়ার আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল থেকেই তাঁর কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদনে ভিড় করেন বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।
শহীদ জুলাই দিবস উপলক্ষে আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন পীরগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা। পরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তারা তাঁর কবরে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্রসংগঠন, সামাজিক সংগঠন, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং দূর-দূরান্ত থেকে আগত সাধারণ মানুষ শহীদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানাতে উপস্থিত হন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে অনেকেই বলেন, আবু সাঈদের আত্মত্যাগ কেবল একটি আন্দোলনের অংশ ছিল না, বরং বৈষম্যহীন সমাজ ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের প্রতীক। তাঁরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে সমুন্নত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে নিহত হন। তাঁর মৃত্যু দেশব্যাপী আন্দোলনে নতুন গতি সঞ্চার করে এবং পরবর্তীতে গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণায় পরিণত হয়। সেই স্মৃতিকে ধারণ করে প্রতি বছর ১৬ জুলাই ‘শহীদ জুলাই দিবস’ পালিত হচ্ছে।
এদিকে আবু সাঈদের আত্মত্যাগের মূল লক্ষ্য ছিল সমাজ থেকে বৈষম্য দূর করা এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। তবে সেই লক্ষ্য এখনো পুরোপুরি অর্জিত হয়নি বলে মনে করেন তাঁর বাবা মকবুল হোসেন। তিনি বলেন, ন্যায়বিচার ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁর ছেলের আত্মত্যাগকে যথাযথ মর্যাদা দিতে হবে।
অন্যদিকে শহীদ জুলাই দিবস উপলক্ষে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থিত আবু সাঈদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা। এ সময় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, “শহীদ আবু সাঈদ শত বাধা, নির্যাতন, টিয়ারশেল ও লাঠিচার্জের মুখেও পিছিয়ে যাননি। মৃত্যুর ঝুঁকি উপেক্ষা করে তিনি গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তাঁর আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
পরে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আহমেদ আযম খান স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বলেন, “জুলাই আন্দোলনে যারা নির্মমভাবে গুলি চালিয়ে অসংখ্য মায়ের বুক খালি করেছে, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে ন্যায়ভিত্তিক বিচার নিশ্চিত করা হবে। আমরা প্রহসনের বিচার চাই না, সত্যিকারের দায়ীদের বিচার চাই। বিচার করতে সময় লাগলেও তা হবে ন্যায়সঙ্গত ও দৃষ্টান্তমূলক।”
পরে তিনি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত আলোচনা সভায় অংশ নেন। অনুষ্ঠানে আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকত আলী, রংপুর বিভাগের ও জেলার ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
দিনব্যাপী কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া মানুষের কণ্ঠে ছিল একটাই প্রত্যাশা—শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগ যেন বৃথা না যায় এবং তাঁর স্বপ্নের বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়।