বৃহস্পতিবার, ১৬ Jul ২০২৬, ১২:০৯ পূর্বাহ্ন
প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির অনুরোধে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এক বছর পর পদত্যাগ করেছেন ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সিভিরিদেঙ্কো। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ইউক্রেনের পার্লামেন্ট সভিরিদেনকোর পদত্যাগপত্র গ্রহণ ও পাস করে।
বিদায়ী ভাষণে সিভিরিদেঙ্কো বলেন, এই বছরের প্রতিটি দিনই কঠিন সিদ্ধান্ত ও জোরালো পদক্ষেপের দাবি রেখেছিল। যে বিশ্বাস ও সমর্থন আমি পেয়েছি, তার জন্য আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। আপনারা জানেন, আমি সবসময় ফলাফলকেই সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিয়েছি।
এদিকে, তার এই বিদায়ে সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী ইউক্রেনের বর্তমান পুরো সরকারের পদত্যাগ নিশ্চিত হয়েছে। আইনপ্রণেতারা বলেছেন, দেশটির রাষ্ট্রীয় তেল ও গ্যাস কোম্পানি নাফতোগাজের প্রধান সের্হি কোরেতস্কি নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্থলাভিষিক্ত হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন।
অন্যান্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে সিভিরিদেঙ্কোর পূর্বসূরি ডেনিস শমিহাল কিংবা বর্তমান প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভও রয়েছেন।
চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মস্কোর জ্বালানি অবকাঠামো ও অন্যান্য স্থাপনা লক্ষ্য করে দূরপাল্লার হামলা চালিয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে যাওয়ার চেষ্টা করছে ইউক্রেন। ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী মূলত দেশটির অভ্যন্তরীণ নীতি ও অর্থনীতি সচল রাখা এবং বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর রাশিয়ার অবিরাম হামলার ক্ষয়ক্ষতি মেরামতের কাজ তদারকি করে থাকেন।
বিদায়ী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী সিভিরিদেঙ্কো বলেন, আসন্ন নতুন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে শীতকালের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া। কারণ শীতকালে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ গ্রিড ও গ্যাস লাইনে রাশিয়ার হামলার তীব্রতা দ্বিগুণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের জড়িয়ে বড় ধরনের দুর্নীতির একটি মামলা জনসমক্ষে আসার পর এক বছর আগে সিভিরিদেঙ্কোকে মন্ত্রিসভার দায়িত্বে আনা হয়েছিল। তবে এরপর থেকে দুর্নীতি দূর বা প্রশাসনে শুদ্ধি অভিযান চালাতে তিনি যথেষ্ট পরিমাণ দৃঢ় ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে সমালোচকরা অভিযোগ করে আসছিলেন।
এর আগে দেশটির প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেছিলেন, ইউক্রেন রাজনৈতিক কৌশল পরিবর্তন করছে ও এ জন্য নতুন মুখের প্রয়োজন। তবে এর বাইরে নতুন করে মন্ত্রিসভায় রদবদল আনার আর কোনো কারণ স্পষ্ট করেননি তিনি।