সোমবার, ১৩ Jul ২০২৬, ০৯:২০ অপরাহ্ন
ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন, মেট অফিস এবং লন্ডন স্কুল অফ হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের গবেষকরা আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্য, জলবায়ু মডেল এবং চরম আবহাওয়াকালীন অতিরিক্ত মৃত্যুর ওপর করা বিভিন্ন গবেষণার পর এমস তথ্য জানিয়েছে।
দেশটির স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থা জানিয়েছে, সাম্প্রতিক তীব্র তাপপ্রবাহের সময়ের মৃত্যুর রেকর্ডের ওপর ভিত্তি করে তারা আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তাপজনিত মৃত্যুর বিষয়ে তাদের আনুষ্ঠানিক হিসাব প্রকাশ করবে।
চলতি বছরে যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপের বড় অংশে ইতোমধ্যে দুটি রেকর্ড-ভাঙা তাপপ্রবাহের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ইংল্যান্ডে তাপমাত্রা মে মাসে ৩৫.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং জুন মাসে ৩৭.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছিল।
মেট অফিসের জলবায়ু অ্যাট্রিবিউশন (জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিশ্লেষণকারী) দলের বিজ্ঞান ব্যবস্থাপক মার্ক ম্যাকার্থি বলেন, যুক্তরাজ্য এবং পশ্চিম ইউরোপের সব অঞ্চলের জন্যই এগুলো ছিল চরম মাত্রার তাপপ্রবাহ। বিশেষ করে বছরের কোন সময়ে এবং কতটা আগেভাগে এগুলো আঘাত হেনেছে, তার বিচারে এগুলো ছিল অত্যন্ত অস্বাভাবিক ঘটনা।
জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে ব্রিটিশ সরকারকে পরামর্শ প্রদানকারী সংস্থা ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ কমিটি’ গত বছরই সতর্ক করেছিল। সংস্থাটি জানায়, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও পরিণতি মোকাবিলায় যুক্তরাজ্য ‘প্রস্তুত নয়’।
যুক্তরাজ্যে তাপজনিত মৃত্যুর বিষয়ে এই গবেষণাটি এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন তথ্য উপাত্তে দেখা গেছে, জুনের শেষভাগে ইউরোপের পশ্চিমাঞ্চলে বয়ে যাওয়া তাপপ্রবাহের সময় মহাদেশজুড়ে ১০ হাজারেরও বেশি মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।
‘ইউরোমোমো’ যা ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সমর্থিত একটি নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, এই মৃত্যুগুলোর অধিকাংশই ঘটেছে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের মধ্যে; এই বয়সসীমার মধ্যে অতিরিক্ত মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৯,০০০।
সূত্র: আলজাজিরা, বিবিসি।