শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিএনপি কখনো বেকারত্ব সৃষ্টি করেনি বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় থেকে বিএনপির সরকার দেশের ভেতরে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
সোমবার (১ জুন) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী রিকশা, ভ্যান ও অটোচালক দল এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে রিজভী বলেন, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কোটিরও বেশি বাংলাদেশি কাজ করছেন। এই বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সূচনা জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই হয়েছে। পাশাপাশি কৃষি, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে প্রণোদনা ও সহযোগিতার মাধ্যমে অসংখ্য উদ্যোক্তা তৈরি করা হয়েছে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, গার্মেন্টস খাতে নারীদের ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাতগুলোর অন্যতম তৈরি পোশাক শিল্পে অর্ধেকের বেশি নারী কাজ করছেন, যা নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের বড় উদাহরণ।
তিনি বলেন, আপনাদেরকে একটা জিনিস মনে রাখতে হবে, কখনোই কোনোভাবেই তারেক রহমানের নেতৃত্বে যে দেশ, এই দেশে কেউ বেকার থাকবে না। নানা উদ্যোগে, নানা সেক্টরে কর্মের প্রসার ঘটবে।
রিজভী আরও বলেন, বর্তমান সরকার হকারদের উচ্ছেদের পরিবর্তে পুনর্বাসনের কথা বলছে। কারণ একজন হকারের সঙ্গেও একটি পরিবারের জীবিকা জড়িত। তিনি বলেন, কোনো সরকারপ্রধান প্রথমবারের মতো হকারদের পুনর্বাসনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন।
তিনি আরও বলেন, অসহায়, দরিদ্র ও অবহেলিত মানুষের জন্য সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করেছে। বিশেষ করে নারীদের অগ্রাধিকার দিয়ে সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে তারা আর্থিক ও সামাজিকভাবে আরও ক্ষমতায়িত হতে পারেন।
জিয়াউর রহমানের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, তিনি মানুষের আত্মনির্ভরশীলতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ১ হাজার ৬০০ মাইল দীর্ঘ খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, যাতে শুকনো মৌসুমে সেচের পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা যায় এবং খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হয়।
তিনি বলেন, এসব খালের মাধ্যমে শুধু কৃষি নয়, মাছ চাষের সুযোগও সৃষ্টি হয়েছিল, যা মানুষের পুষ্টি নিশ্চিত করত এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেছিল।
বক্তব্যে রিজভী আওয়ামী লীগ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত ১৬ বছরে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, জনগণের টাকার বিভিন্ন প্রজেক্টের মাধ্যমে পাচার করেছে ২৮ লাখ কোটি টাকা। ১৬ বছরে শেখ হাসিনা এবং তার দোসররা, তার আত্মীয়স্বজনরা, তার দলের লোকরা পাচার করেছে।
অধ্যাপক আশফাকুল ইসলাম মনুর সভাপতিত্বে এবং অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমানের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু প্রমুখ।