বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ১০:৩৭ অপরাহ্ন

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে জবি ছাত্রীসংস্থার মানববন্ধন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ইসলামী ছাত্রীসংস্থা।

বুধবার (২০ মে) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্বর্য চত্বরে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে এ কর্মসূচি শেষ করেন তারা। এসময়ে জবি ছাত্রীসংস্থার নেত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধনে ছাত্রীসংস্থা জবি শাখার নেতাকর্মীরা দেশে চলমান বিচারহীনতার সংস্কৃতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

তারা বলেন, শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা ও মরদেহ দ্বিখণ্ডিত করার এই বর্বরোচিত ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অতীতে তনু হত্যাকাণ্ড এবং হাদি হত্যার আসামিদের এখনো উপযুক্ত শাস্তি না হওয়ায়, এই বিচারহীনতার সুযোগেই দেশে প্রতিনিয়ত এমন জঘন্য অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটছে।

এসময় প্রশাসন ও আইন ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তারা রামিসা ও হাদি হত্যার আসামিদের দ্রুততম সময়ে সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।

এ বিষয়ে জকসুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক ও ছাত্রীসংস্থার নেত্রী সুখীমন খাতুন বলেন, ‘রামিসা হত্যাকাণ্ডটা গতকালের ঘটনা হলেও এটা কিন্তু প্রতিনিয়ত আমাদের এ সমাজে ঘটে যাচ্ছে। প্রতিদিনের নিউজের পাতা উল্টালেই আমরা এ ধর্ষণ ও এ সম্পর্কিত ঘটনা দেখতে পাই। এটি বর্তমানে নর্মাল বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে, এটা এমনভাবে ছড়িয়েছে যে একটা ব্যাধির মতো। এর কোনো প্রতিকার নেই, এর কোনো প্রতিরোধ নেই।’

ধর্ষণের কারণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে তার কারণ এ দেশের বিচারব্যবস্থা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি। আমরা কে ধর্ষক তাকে খুঁজে বের করছি, চিনছি কিন্তু তার বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত তা নেওয়া হচ্ছে না। যা এ ঘটনাগুলোকে প্রতিনিয়তই বাড়িয়ে তুলছে।”

সুখীমন খাতুন আরও বলেন, ‘যখন কোনো এমন ঘটনা ঘটছে আমরা ফেসবুকে পোস্ট করে বা মানববন্ধন করে প্রতিবাদ জানাচ্ছি, এরপর যখন অন্য একটা বিষয় আমাদের সামনে চলে আসছে তখন এ ঘটনা ভুলে যাচ্ছি যাতে আমাদের আলটিমেটলি কোনো লাভ হচ্ছে না।’

বিচার বিভাগকে প্রশ্ন করে বলেন, ‘আপনারা আর কতটা ধর্ষণ বা এমন কোনো কিছু ঘটলে সজাগ হবেন এবং এটি প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।’

গত মঙ্গলবার (১৯ মে) রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিশু কন্যাকে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটে। পরিবারের অভিযোগ, শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার প্রধান অভিযুক্ত মো. জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানা আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved bijoykantho© 2025