বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ০২:২১ পূর্বাহ্ন
গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে যাত্রা শুরু করা ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ নৌবহর আন্তর্জাতিক জলসীমাতেই আটকে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) সন্ধ্যার মধ্যে ৫০টি নৌবহরে হামলা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। একই সঙ্গে নৌবহরে থাকা ৪২৮ মানবাধিকারকর্মীকে অপহরণ করে আশদোদ বন্দরে নিয়ে গেছে দখলদার ইসরায়েল।
বুধবার (২০ মে) ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা ‘আদালাহ’ এই তথ্য জানিয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এবং দ্য জেরুজালেম পোস্ট।
আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসন শুরু হয়। তারা মোট ৫০টি নৌযানে হামলা চালায়। এই নৌযানগুলোতে ৪৪টি দেশের ৪২৮ জন কর্মী ছিলেন, যার মধ্যে ৭৮ জন তুরস্কের নাগরিক। এদের সবাইকে আটক করে আশদোদ বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই নৌবহরটি গত বৃহস্পতিবার তুরস্কের মারমারিস জেলা থেকে যাত্রা শুরু করেছিল।
নৌবহরের আয়োজকরা জানিয়েছেন, ইসরায়েল কর্তৃক অপহৃত হওয়ার প্রতিবাদে এবং ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি থাকা ৯,৫০০ ফিলিস্তিনি বন্দির প্রতি সংহতি জানিয়ে ৮৭ জনেরও বেশি অধিকারকর্মী এরই মধ্যে অনশন ধর্মঘট শুরু করেছেন।
মানবাধিকার সংস্থাটির দেওয়া বিবরণ ও প্রাসঙ্গিক তথ্য মতে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় থাকা অবস্থায় গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলাতে অবৈধ ইসরায়েলি সামরিক ইন্টারসেপশনের (নৌযান আটকে দেওয়া) পর মানবাধিকারকর্মীদের জোরপূর্বক আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে অপহরণ করা হয়।
গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং সেখানকার অবৈধ অবরোধকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য যাত্রা শুরু করলেও তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে মানবাধিকারকর্মীদের ইসরায়েলি ভূখণ্ডে নিয়ে আসা হয়েছে।
বন্দিদের আইনি সহায়তা দেওয়া সংস্থা আদালাহ আরও জানিয়েছে যে, আটককৃত অধিকারকর্মীদের বর্তমান অবস্থান, তাদের আইনি মর্যাদা এবং শারীরিক সুস্থতা সংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার সুযোগ মারাত্মকভাবে সীমিত করে দেওয়া হয়েছে। তবে, সংস্থাটির নিজস্ব আইনজীবী এবং বেশ কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী আইনজীবীকে বন্দিদের সাথে আইনি পরামর্শ করার জন্য আশদোদ বন্দরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
সংস্থাটির আইনি দল এই আটকের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করার এবং ফ্লোটিলার সমস্ত অংশগ্রহণকারীকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক জলসীমায় বেসামরিক জাহাজে সামরিক হস্তক্ষেপ করা আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। আন্তর্জাতিক নাগরিকদের তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ইসরায়েলি ভূখণ্ডে স্থানান্তর করা সম্পূর্ণ অবৈধ। অবরুদ্ধ জনগোষ্ঠীর কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার নিরাপদ পথ প্রত্যাখ্যান করা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের পরিপন্থি। এই পদক্ষেপগুলো গাজার ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের যৌথ শাস্তি এবং অনাহারে রাখার নীতিরই একটি সরাসরি অংশ।
২০০৭ সাল থেকে গাজার ওপর আরোপিত অবৈধ ইসরায়েলি অবরোধ ভাঙতে এটি নতুন প্রচেষ্টা ছিল। এর আগে এপ্রিলের শেষভাগে, গ্রিসের ক্রেট দ্বীপের অদূরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ফ্লোটিলার নৌকাগুলোতে হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। সেই বহরে ৩৯টি দেশের ৩৪৫ জন অংশগ্রহণকারী ছিলেন, যার মধ্যে তুর্কি নাগরিকরাও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
২০০৭ সাল থেকে গাজা উপত্যকার ওপর একটি মারাত্মক অবরোধ আরোপ করে রেখেছে ইসরায়েল। এর ফলে সেখানকার ২৪ লাখ মানুষ চরম খাদ্যসংকট ও অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজায় তীব্র আক্রমণ শুরু করে, যা ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি করেছে। ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় গাজা উপত্যকায় এখন পর্যন্ত ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়। এছাড়া দখলদার বাহিনীর আগ্রাসনে আহত হয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ।