বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ন
রাজধানীর মিরপুরে আট বছরের এক শিশুকে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী সম্পাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৯ মে) তাদের গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছেন ডিএমপির মিরপুর জোনের ডিসি মোস্তাক সরকার।
এর আগে সকালে পল্লবী থানাধীন একটি বাসা থেকে রামিসা আক্তার নামের শিশুটির গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে পপুলার স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী ছিল।
জানা গেছে, হত্যার পর শিশুটির শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাসার খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯ এ খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়।
পুলিশের ধারণা, হত্যার আগে শিশুটি পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর প্রতিবেশী সোহেল রানা পালিয়ে যান। পরে সন্ধ্যায় তাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে আটক করে পুলিশ। তবে এর আগেই তার স্ত্রী সম্পাকে বাসা থেকে আটক করা হয়। সোহেল-সম্পা দম্পতির ঘরে মেয়েটিকে হত্যা করা হয়েছে। সোহেল একটি রিকশার গ্যারেজে কাজ করেন। প্রতিবেশী হওয়ায় রামিসা ও তার বাবা-মায়ের সঙ্গে সোহেলের পরিচয় ছিল।
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ স্বপ্না নামে এক নারীকে আটক করে। কিন্তু বাসার গ্রিল কেটে পালিয়ে যাওয়ায় তার স্বামী প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে গ্রেফতার করতে পারেনি। এরপর থেকে তার সন্ধ্যানে অভিযানে নামে ডিএমপি। অবশেষে সন্ধ্যার দিকে তাকে গ্রেফতার করে। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রী দুজনই গ্রেফতার হলেন।
নিহত শিশুর পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে দশটার দিকে স্কুলে পাঠানোর জন্য রামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। বাসায় না পেয়ে খোঁজাখুঁজি করেন ভবনে। এক পর্যায়ে তৃতীয় তলায় রামিসাদের বাসার উল্টো দিকের ফ্ল্যাটের দরজার সামনে, শিশুটির ব্যবহৃত স্যান্ডেল পাওয়া যায়। ভবনের অন্যান্য বাসিন্দাদের নিয়ে ওই ফ্ল্যাটের দরজায় খুলতে বলা হলেও, সাড়া আসেনি ভেতর থেকে। পরে, দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ফ্ল্যাটের সোহেল রানার রুমে, খাটের নিচে পাওয়া যায় শিশু রামিসার মাথা-বিহীন মরদেহ।
প্রতিবেশী এক নারী সময় সংবাদকে বলেন, শুনলাম সাত বছরের বাচ্চাকে নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয়েছে।
স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, ছেলেটার সম্ভবত কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিলো। টাকা-পয়সা না, অন্যকিছু। তার স্ত্রীকে ধরেছে। কিন্তু সে নিজে গ্রিল কেটে পালায় গেছে।