সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ০৯:৫৬ অপরাহ্ন
দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে টানা বৃষ্টিপাতের কারণে হাওর অঞ্চলের বিভিন্ন নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। এতে তিন জেলার সাতটি নদীর আটটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা বন্যার আশঙ্কা বাড়িয়েছে।
সোমবার (৪ মে) সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এ তথ্য জানিয়েছে।
সংস্থাটি জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর মধ্যে নেত্রকোনার জারিয়াজঞ্জাইলে ৭৪ মিলিমিটার, হবিগঞ্জ সদরে ৭৪ মিলিমিটার এবং চাঁদপুর-বাগান এলাকায় ৬১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে নলজুর নদীর পানি ১১ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নেত্রকোনার জারিয়াজঞ্জাইলে ধনু-বাউলাই নদীর পানি ৯ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপর রয়েছে।
একই জেলার কলমাকান্দায় সোমেশ্বরী নদীর পানি ১৪ সেন্টিমিটার কমলেও এখনো বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া জারিয়াজঞ্জাইলে ভুগাই-কংশ নদীর পানি ২২ সেন্টিমিটার কমে বর্তমানে বিপৎসীমার ৬৭ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে।
নেত্রকোনা সদরে মগরা নদীর পানি ৫ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৭৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আটপাড়ায় একই নদীর পানি বিপৎসীমার ২৭ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে।
হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে কালনি নদীর পানি ১৫ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপরে এবং সুতাং রেলসেতু এলাকায় সুতাং নদীর পানি ২৩ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৮৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলের নদীগুলোর পানি ধীরে ধীরে বাড়ছে, প্রতি ঘণ্টায় শূন্য থেকে এক সেন্টিমিটার হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এদিকে ভারতের মেঘালয় ও আসাম অঞ্চলেও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে ১৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের উজান এলাকায় পানির চাপ আরও বাড়াতে পারে।