মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০১:২৭ পূর্বাহ্ন
দেশের চার জেলায় বজ্রপাতে ৯ জন নিহত হয়েছেন। এরমধ্যে নেত্রকোনায় তিনজন, সুনামগঞ্জে তিনজন, হবিগঞ্জে দুজন এবং নোয়াখালীর একজন রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই কৃষক। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
নেত্রকোনার খালিয়াজুরীতে বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় তাদের মৃত্যু হয়।
নিহতরা হলেন ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বাগবেড় গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মোতালিব (৫৫), সাতগাঁও গ্রামের মোনায়েম খাঁ পালান (৫৩) এবং সিরাজগঞ্জের আকনাদিঘীরচর গ্রামের অফিকুল মন্ডলের ছেলে শুভ মন্ডল।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্র জানায়, সকালে খালিয়াজুরীর রসুলপুর ফেরিঘাটের পাশে বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে গেলে বজ্রপাতে মারা যান আব্দুল মোতালিব। দুপুরের দিকে বাড়ির সামনে ধান শুকাতে গেলে বজ্রপাতে মোনায়েম খাঁ পালানের মৃত্যু হয়।
খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসির উদ্দিন এসব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
সুনামগঞ্জের সদর উপজেলায় পৃথক বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে দুজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।
নিহতরা হলেন সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর গ্রামের আব্দুর কাদিরের ছেলে জমির উদ্দিন (৩৮) এবং গৌরারং ইউনিয়নের বৈটাখালি গ্রামের কায়িদ হোসেনের ছেলে জমির হোসেন (৪০)। অন্যজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে সদর উপজেলার আব্দুল্লাহপুর গ্রামের দেখার হাওরে অন্যান্য কৃষকদের সঙ্গে ধান কাটতে যান জমির উদ্দিন। এসময় বজ্রপাত হলে তিনি আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
একই সময় গৌরারং ইউনিয়নের বৈটাখালি গ্রামের জমির হোসেন বাড়ি থেকে বের হয়ে বৈটাখালি নদীঘাট দিয়ে হাওরে যাওয়ার সময় বজ্রপাতে আহত হন। স্থানীয়রা থাকে উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন।
দেখার হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে আহত হন আরেক কৃষক। পরে স্থানীয় ও পরিবারের লোকজন তাকে উদ্বার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের চিকিৎসক শফিকুর রহমান বলেন, বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে দুজনের পরিচয় পাওয়া গেছে।
হবিগঞ্জের বানিয়াচং ও নবীগঞ্জে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন আরও একজন। দুপুরে এ বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন নবীগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের মকসুদ মিয়া (৩৫) ও বানিয়াচং উপজেলার জাতুকর্ণ পাড়ার আব্দুল সালাম (৬০)।
বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা বেগম সাথী জানান, ধান কেটে বাড়ি ফিরছিলেন উপজেলার জাতুকর্ণপাড়ার আব্দুল গফুরের ছেলে আব্দুল সালাম। এসময় প্রচণ্ড বৃষ্টি শুরু হলে বজ্রপাতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। এসময় গড়েরপাড় এলাকার সামরুজ মিয়া (৫০) নামের আরও একজন কৃষক আহত হন।
নবীগঞ্জ ইউএনও মো. রুহুল আমিন জানান, নোয়াগাঁও গ্রামের ছাবর উল্লাহর ছেলে মকসুদ আলী হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান। তার পরিবারটি দরিদ্র। পরিবারটির জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় বজ্রপাতে আরাফাত হোসেন (২০) নামের এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে।
দুপুরে চরঈশ্বর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব গামছাখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আরাফাত হোসেন ওই গ্রামের মৃত আফছার উদ্দিনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেল ৩টার দিকে আরাফাত তার মা শায়েলা আক্তারসহ বাড়ির পাশে ক্ষেত থেকে বাদাম তুলতে যান। এসময় বজ্রপাতে আরাফাত ঘটনাস্থলেই মারা যান। তিনি স্থানীয় খাসেরহাট বাজারের কসমেটিক ব্যবসায়ী ছিলেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রাশেদ উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বজ্রপাতের খবর পেয়ে এলাকার লোকজন ছুটে আসেন। পরে আরাফাতকে উদ্ধার করে পাশের চিকিৎসাকেন্দ্রে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।