শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০১ পূর্বাহ্ন

টানা ৭২ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন কিশোরগঞ্জের ১১ উপজেলা

টানা ৭২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় স্থবির হয়ে পড়েছে কিশোরগঞ্জের ১১টি উপজেলায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। তীব্র গরমের পাশাপাশি পানি ও মোবাইল যোগাযোগ সংকটে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত সংস্কার শেষ করে সংযোগ সচল না হলে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ১৪ এপ্রিল পয়লা বৈশাখের রাতে হওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে জেলার বিভিন্ন স্থানে পল্লী বিদ্যুতের লাইনের ওপর গাছ পড়ে তার ছিঁড়ে যায় এবং অনেক জায়গায় বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়ে। এতে করে জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়। বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে সংরক্ষিত পচনশীল খাদ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি দেখা দিয়েছে তীব্র পানি সংকট। মোবাইল ফোন চার্জ দিতে না পারায় জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে। ফলে আধুনিক জীবনযাত্রা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

কিশোরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন সদর, হোসেনপুর, পাকুন্দিয়া, কটিয়াদী, করিমগঞ্জ, তাড়াইল, নিকলী, বাজিতপুর, ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম উপজেলার গ্রাহকেরা এই সংকটে পড়েছেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, দিনের বেলা তীব্র গরমে ঘরে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে, আর রাতে অন্ধকারে চুরির আশঙ্কা বাড়ছে। ঝড়ের অজুহাতে এত দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকা তারা মেনে নিতে পারছেন না।

সদর উপজেলার মহিনন্দ ইউনিয়নের ভাস্করখিলা গ্রামের বাসিন্দারা জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় খাবার পানির সংকট তীব্র হয়েছে। কোরবানির ঈদের জন্য লালন-পালন করা গবাদিপশুর দেখভাল করতেও তারা সমস্যায় পড়ছেন।

একজন এসএসসি পরীক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় তার সন্তানের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে।

তাড়াইল উপজেলায় বিদ্যুৎ সংকটের কারণে ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপগুলোতে লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। অটোরিকশাচালকেরাও যানবাহন চার্জ দিতে না পারায় আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

ইটনা উপজেলার এলংজুরী ইউনিয়নের বড়হাত কবিলা গ্রামের বাসিন্দা মো. বাইজিদ ভুঁইয়া বলেন, আমাদের এলাকায় বিদ্যুৎ মাঝে মধ্যে আসে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বেশিরভাগ সময়ই বিদ্যুৎ থাকে না। সামান্য বাতাস হলেই দুই দিনের জন্য চলে যায়, বাতাস থেমে গেলেও বিদ্যুৎ আসে না। এতে হাওরের মানুষ ফ্রিজে রাখা পচনশীল খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে।

কিশোরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. আতিকুজ্জামান চৌধুরী জানান, ঝড়ে লাইনের ওপর গাছ পড়ে তার ছিঁড়ে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে এবং দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, হাওর এলাকায় লাইনের তার ছিঁড়ে গেলে তা খুঁজে পেতে সময় লাগে। তবে জনদুর্ভোগ কমাতে তারা কাজ করে যাচ্ছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved bijoykantho© 2025