মঙ্গলবার, ১৪ Jul ২০২৬, ০৪:৫৯ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস

সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কোম্পানির মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার সুযোগ রেখে ‘বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (দ্বিতীয় সংশোধন) আইন, ২০২৬’ বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম অধিবেশনের ২৩তম দিন বিলটি পাসের জন্য সংসদীয় বিশেষ কমিটির সুপারিশ সংযোজন করে বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সর্দার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

এর আগে গত ২৮ জুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন। পরে অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য তা সংসদীয় বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল। সোমবার বিলটি উত্থাপনের পর কণ্ঠভোটে পাস হয়।

বিলটি নিয়ে সরকারের দাবি—এর মাধ্যমে বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ হবে। তবে বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরা একে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার বেসরকারিকরণের দিকে একটি পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর বিরোধিতা করেছেন।

সংশোধিত আইনে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের জন্য কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর অধীনে লাভজনক (ফর-প্রফিট) বা অলাভজনক (নট-ফর-প্রফিট) কোম্পানি গঠনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

এ আইনের আওতায় বিশ্ববিদ্যালয় কোম্পানির শেয়ার অধিগ্রহণ, ধারণ ও হস্তান্তর করতে পারবে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্জিত আয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে।

বিরোধীদলের সদস্যরা বলেন, একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্যসেবা কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালিত হওয়া উচিত নয়। এতে চিকিৎসাসেবা আরও বাজারমুখী হয়ে সাধারণ মানুষের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সর্দার মো. সাখাওয়াত হোসেন এসব সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে বলেন, দেশের ১৮ কোটি মানুষের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এটি একটি ‘অনন্য’ উদ্যোগ। তিনি বলেন, দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে নতুন কাঠামোর মাধ্যমে বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবার পরিসর আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ-সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হলেও সুস্পষ্ট ব্যবস্থাপনা কাঠামো ও জনবল নিয়োগের ব্যবস্থা না থাকায় এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি। এ সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যেই সংশোধনী আনা হয়েছে।

সরকারের পক্ষে সংসদে জানানো হয়, কোম্পানির মাধ্যমে হাসপাতাল পরিচালিত হলে একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে উঠবে। এতে চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবল নিয়োগ সহজ হবে, দেশি-বিদেশি খ্যাতিমান বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করা যাবে এবং চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা ও উচ্চতর ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ আরও শক্তিশালী হবে।

সংশোধিত আইনে কোম্পানি গঠন ও পরিচালনা, শেয়ার মালিকানার কাঠামো এবং পরিচালনা পর্ষদে প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতাও বিশ্ববিদ্যালয়কে দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকানাধীন বা সংশ্লিষ্ট কোম্পানি থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ, ইজারা বা লাইসেন্স ফি এবং অন্যান্য আয় বিশ্ববিদ্যালয় তহবিলে জমা হবে। এসব অর্থ পুনরায় স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved bijoykantho© 2025