মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ০২:৪৪ পূর্বাহ্ন
সরকারি খরচ কমাতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। সোমবার (২৩ মার্চ) তিনি সরকারি সব গাড়িতে উন্নতমানের পরিশোধিত অকটেন (হাই-অকটেন) ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। এমনকি, এই নিয়ম অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেষ দিয়েছেন।
এর আগে হাই-অকটেনের ওপর সারচার্জ প্রতি লিটারে ২০০ রুপি বাড়ানো হয়েছিল। এর পরই এই সিদ্ধান্ত নিলো পাকিস্তান সরকার। ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জেরে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট তৈরির পাশাপাশি দামও বেড়েছে অনেক। এর প্রভাব সামাল দিতে শাহবাজ সরকার এসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সোমবার (২৩ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) এক ঘোষণায় বলা হয়েছে, সরকারি গাড়িতে হাই-অকটেন ব্যবহার করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রয়োজনে ওই জ্বালানি খরচ কর্মকর্তাদের নিজেদের পকেট থেকেই দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক তেল সংকটের কারণে জ্বালানি সাশ্রয় করা জরুরি।
এর আগে রোববার (২২ মার্চ) বিলাসবহুল গাড়িতে ব্যবহৃত হাই-অকটেন জ্বালানির ওপর সারচার্জ প্রতি লিটারে ২০০ রুপি বাড়িয়ে মোট ৩০০ রুপি করা হয়। তবে গণপরিবহন বা বিমানে ব্যবহৃত জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়নি।
এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রতি মাসে সরকারের ৯০০ কোটি রুপি সাশ্রয় হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই অর্থ জনগণের পেছনে ব্যয় হবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, এতে ধনীদের ওপর বেশি চাপ পড়বে এবং অর্থনীতির ওপর চাপ কিছুটা কমবে বলেও মনে করছে সরকার।
ইরান যুদ্ধ ঘিরে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দুই সপ্তাহ আগে ঘোষিত সাশ্রয়ী পদক্ষেপের ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসলামাবাদ। এর মধ্যে রয়েছে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, সরকারি গাড়ির জ্বালানি ভাতা ৫০ শতাংশ কমানো, চারদিনের কর্মসপ্তাহ চালু ও সরকারি চাকরিজীবীদের অর্ধেক হোম-অফিস অর্থাৎ বাসা থেকে কাজ করবেন। তবে জরুরি সেবাক্ষেত্রের জন্য এসব নিয়ম প্রযোজ্য নয়।
সূত্র: ডন