রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬, ০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
ঈদের নামাজের ইমাম নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, নিহত ১ শেখ হাসিনা সরকারের প্রবণতা এই সরকারেও দেখা যাচ্ছে: নাহিদ ইসলাম জ্বালানি সংকট নিয়ে সরকারকে যে বার্তা দিলেন জামায়াত আমির পরিকল্পিত জাকাত ব্যবস্থাপনায় দারিদ্র্য বিমোচনে ভূমিকা রাখা সম্ভব পোস্টাল ভোট: জামায়াত পেয়েছে ৪৫.৮৮%, বিএনপি ৩০.২৮% দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক শক্তিশালী করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী অন্তর্বর্তী সরকার কোনো চুক্তি নিয়ে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করেনি:জামায়াত আমির এক দলের জায়গায় আরেক দল বসেছে, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি: নাহিদ ‘দেশ ও জাতির কল্যাণে সংসদে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবে জামায়াত’ বিএনপির এমপিদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

পোস্টাল ভোট: জামায়াত পেয়েছে ৪৫.৮৮%, বিএনপি ৩০.২৮%

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোস্টাল ভোটে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি পেয়েছে ৪৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ ভোট, আর বিএনপি পেয়েছে ৩০ দশমিক ২৮ শতাংশ ভোট। এছাড়া দুটি আসনের জয়-পরাজয়েও ডাকযোগে দেওয়া ভোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

শনিবার (৭ মার্চ) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) চূড়ান্ত ফলাফল বিশ্লেষণে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রথমবারের মতো আইটি-সমর্থিত পোস্টাল ভোটের ব্যবস্থা করে ইসি। এতে প্রবাসীদের পাশাপাশি দেশের ভেতরে নির্বাচনি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি এবং কারাবন্দি ভোটাররাও ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ পান।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, পোস্টাল ভোট দেওয়ার জন্য ১৫ লাখ ২০ হাজার ৯৩ জন নিবন্ধন করেন। এরমধ্যে মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ১০ লাখ ৬৩ হাজার ৮৭৪টি। মোট বাতিল ভোটের সংখ্যা ৫৭ হাজার ৮৯৮ জন। ভোটের হার ৬৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিএনপি পোস্টাল ভোটে পেয়েছে ৩ লাখ ২২ হাজার ১৪৪ টি। জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৪ লাখ ৮৮ হাজার ১১৪ ভোট এবং এনসিপি পেয়েছে ৫২ হাজার ৮৪০ ভোট। বাকি ভোট গেছে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের ঝুলিতে। শতকরা হিসেবে জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৪৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ, বিএনপি পেয়েছে ৩০ দশমিক ২৮ শতাংশ এবং এনসিপি পেয়েছে ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ পোস্টাল ভোট।

এদিকে দুটি আসনে জয়-পয়াজয়ে ভূমিকা রেখেছে পোস্টাল ভোট। সিরাজগঞ্জ-৪ ও মাদারীপুর-১ আসনে এমন ঘটনা ঘটেছে। দুটি আসনেই জয়লাভ করে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট।

সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী রফিকুল ইসলাম খান পেয়েছিলেন ১ লাখ ৫৯ হাজার ৬৯৩ ভোট। অন্যদিকে, বিএনপির প্রার্থী এম আকবর আলী পেয়েছিলেন ১ লাখ ৬০ হাজার ৪৫৮ ভোট। সে হিসাবে প্রাথমিকভাবে এগিয়ে ছিলেন বিএনপি প্রার্থী। তবে পোস্টাল ব্যালটের ভোট যুক্ত হওয়ার পর চিত্র পাল্টে যায়। পোস্টাল ভোটে রফিকুল ইসলাম খান পান ২ হাজার ১৭৯ ভোট, আর এম আকবর আলী পান ৮২০ ভোট। ফলে মোট গণনায় জামায়াতের প্রার্থী ৫৯৪ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন।

এছাড়া মাদারীপুর-১ আসনে পোস্টাল ভোট যোগ হওয়ার পর ফলাফলে পরিবর্তন আসে। এখানে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের প্রার্থী সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা, যিনি ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ছিলেন। তিনি বিএনপির প্রার্থী নাদিরা আক্তারকে ৩৮৫ ভোটে পরাজিত করে নির্বাচিত হন।

পোস্টাল ব্যালট যুক্ত হওয়ার আগে নাদিরা আক্তার পেয়েছিলেন ৬৪ হাজার ২৯১ ভোট এবং হানজালার পেয়েছিলেন ৬৩ হাজার ৫১১ ভোট। তবে পোস্টাল ভোটে হানজালা পান ১ হাজার ৩৯৮ ভোট, আর নাদিরা আক্তার পান ২৩৩ ভোট। এতে চূড়ান্ত ফলাফলে বিএনপি প্রার্থী ৩৮৫ ভোটে পিছিয়ে পড়েন।

পোস্টাল ব্যালটে সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে রংপুর-২ আসনে। এখানে ভোটের হার ৮৭ দশমিক ০৮ শতাংশ। আর সবচেয়ে কম শূন্য শতাংশ পড়েছে পঞ্চগড়-২, ঠাকুরগাঁও- ২, ঠাকুরগাঁও-৩ এবং চট্টগ্রাম- ১ আসনে।

অন্যদিকে, হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে ঢাকা -১৭ আসনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান পোস্টাল ভোট পেয়েছেন ১ হাজার ২৫৬টি। একই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. এস এম খালিদুজ্জামান পেয়েছেন ২ হাজার ৩২৮ ভোট। বগুড়া-৬ আসনে তারেক রহমান পোস্টাল ভোট পেয়েছেন ১ হাজার ৫৪৫টি। আর জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আবিদুর রহমান পেয়েছেন ১ হাজার ৬২ ভোট।

ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান পোস্টাল ভোট পেয়েছেন ২ হাজার ৭৯০ টি। আর বিএনপির মো. শফিকুল ইসলাম খান পেয়েছেন ১ হাজার ৯২০ ভোট।

ঢাকা-১১ আসনে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম পোস্টাল ভোট পেয়েছেন ১ হাজার ৮৩৪টি। আর বিএনপির প্রার্থী এম. এ কাইয়ুম পেয়েছেন ৮৬৪ ভোট।

কুমিল্লা-৪ আসনে ১১ দলীয় জোটের শরিক ও এনসিপির প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহর পোস্টাল ভোট পেয়েছেন ৬ হাজার ৫৬ টি। তার প্রতিদ্বন্দ্বী গণঅধিকার পরিষদের মো. আ. জসিম উদ্দিন পেয়েছেন ২৪১ ভোট। জেলার প্রতিটি আসনেই জামায়াত জোট বেশি পোস্টাল ভোট পেয়েছেন। চাঁদপুর, নোয়াখালী এবং লক্ষীপুরেও একই অবস্থা।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ফেনী-৩ আসন থেকে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে সবচেয়ে বেশি নিবন্ধন করেছিলেন। এ আসনে ১৬ হাজার ৩৮ জন নিবন্ধন করেছিলেন। এতে বিএনপি প্রার্থী আব্দুল আউয়াল মিন্টু ৩ হাজার ১৯৬ পোস্টাল ভোট পেয়েছেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন পেয়েছেন ৭ হাজার ৩৩৯ ভোট।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved bijoykantho© 2025